west bengal earthquake
প্রতীকী ছবি
শ্রয়ণ সেন

বুধবার সকাল ১০:২০ মিনিটে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ। বাংলা-অসম সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে এই কম্পনের ফলে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়েছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং কালিম্পঙে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

উত্তরবঙ্গ অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ, দক্ষিণবঙ্গ তুলনায় কম প্রবণ। তবে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েক বার কম্পনে ভালো মতো দুলে উঠেছে গোটা রাজ্য। রাজ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি কম্পনের তথ্য দিয়ে একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হল।

——————————————————————————————–

১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮– বাংলা-অসম সীমান্তে কোকরাঝাড়ে ৫.৬-এর কম্পন। প্রভাব পড়ল গোটা রাজ্যে। আতঙ্কে রাস্তায় মানুষজন।

২৮ আগস্ট ২০১৮– পশ্চিম মেদিনীপুরের দাশপুরে ৪.৮ মাত্রার কম্পন। প্রভাব পড়ল দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং হুগলির কিছু অংশে। কলকাতায় প্রভাব পড়েনি।

১৭ জুন ২০১৮– সিকিমে ৪.৫ মাত্রার কম্পন কাঁপাল উত্তরবঙ্গকে।

২০ জানুয়ারি ২০১৮– কম্পনে দুলে উঠল উত্তরবঙ্গ। ৫.২ মাত্রার এই কম্পনের উৎস অসমের ধুবুরি।

আরও পড়ুন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল গোটা রাজ্য, উৎসস্থল বাংলা-অসম সীমান্ত

২৯ মে ২০১৭– ৩.৬ মাত্রার কম্পন অনুভূত জলপাইগুড়ির মালবাজারে।

২৭ মার্চ ২০১৭– সিকিমে উৎপত্তি ৪.৬ মাত্রার কম্পনের প্রভাব পড়ল উত্তরবঙ্গে।

৩ জানুয়ারি ২০১৭– ত্রিপুরার ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কিছুটা টের পেল উত্তরবঙ্গ।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬– দার্জিলিং-এ ৩.২ মাত্রার কম্পন। শিলিগুড়িতে অনুভূত।

২৪ আগস্ট ২০১৬– মায়ানমারে উৎপত্তি ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ভালো টের পাওয়া গেল গোটা পশ্চিমবঙ্গে। উত্তরবঙ্গের থেকে এ বার বেশি প্রভাব পড়ল দক্ষিণবঙ্গে। কলকাতায় কিছুক্ষণ বন্ধ রাখা হল মেট্রো চলাচল।

নেপাল ভূমিকম্পের সময়ে শিলিগুড়িতে ভেঙে পড়া একটি বাড়ির একাংশ। ছবি টুইটার।

১৩ এপ্রিল ২০১৬– মায়ানমার কাঁপাল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যকে। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬.৭।

১২ মার্চ ২০১৬– জলপাইগুড়িতে অনুভূত ৩.৮ মাত্রার কম্পন।

৪ জানুয়ারি ২০১৬– ভোররাতে ভয়াবহ কম্পনে কেঁপে উঠল মণিপুরের টামেনলং। ৬.৭ মাত্রার এই কম্পনের ভালো প্রভাব পড়ল রাজ্যে। উত্তরবঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। আতঙ্কে একজনের মৃত্যুরও খবর পাওয়া যায়।

২৮ জুন ২০১৫– কোকরাঝাড়ে ৫.৬ মাত্রার কম্পন। উত্তরবঙ্গে ভালো রকম টের পাওয়া গেল। কোচবিহার,আলিপুরদুয়ারে বাড়িতে ফাটলও দেখা দেয়।

১২ মে ২০১৫– ৭.৩-এর কম্পনে দুলে উঠল নেপাল। ব্যাপক প্রভাব পড়ল রাজ্যে। দিন পনেরো আগের নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের আফটারশক হিসেবে ধরা হয়েছিল এই কম্পনকে। এই কম্পনের প্রভাবে বেশ কয়েক জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

২৭ এপ্রিল ২০১৫– মিরিকে উৎপত্তি হয় ৫.১-এর একটি ভূমিকম্প। বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, দু’দিন আগের নেপালের ভয়াবহ কম্পনের প্রভাব কাটিয়ে না ওঠা মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়ায়।

আরও পড়ুন ভূমিকম্পে তছনছ হতে পারে ভারতের ২৯টি শহর, রয়েছে পশ্চিমবঙ্গেরও কয়েকটি

২৫ এপ্রিল ২০১৫– সাম্প্রতিককালে রাজ্যে সব থেকে ভয়াবহ কম্পন। নেপালে ৭.৯ মাত্রার কম্পনের সরাসরি প্রভাব পড়ল পশ্চিমবঙ্গ। দুলে উঠল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য। উত্তরবঙ্গে ব্যাপক প্রভাব। ভেঙে পড়ে অনেক ঘরবাড়ি। রাজ্যে কমপক্ষে তিন জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

২১ মে ২০১৪– ওড়িশা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে উৎপত্তি ৬ মাত্রার কম্পনের প্রভাব পড়ল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে।

১ জুন ২০১৩– কেঁপে উঠল কলকাতা। ৩.৪ মাত্রার এই কম্পের উৎসস্থল ছিল সুন্দরবন।

১১ এপ্রিল ২০১২– সুমাত্রায় পরপর দু’টি ভয়াবহ কম্পন। প্রথমটির মাত্রা ৮.৬ এবং পরেরটি ৮.২। দু’টো কম্পনই বোঝা গেল কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গে।

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১১– উত্তরবঙ্গের কাছে সব থেকে ভয়াবহ এই কম্পন। সিকিমের মঙ্গনের কাছে উৎপত্তি ৬.৮ মাত্রার এই কম্পনের সরাসরি প্রভাব পড়ল দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ উত্তরবঙ্গের সব জেলায়। ভেঙে পড়ে বাড়িঘর। এই কম্পনে রাজ্যে কমপক্ষে সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এ ছাড়াও একাধিকবার হালকা কম্পনে দুলেছে গোটা রাজ্য, বিশেষত উত্তরবঙ্গ।

(তথ্য সহায়তা সুজিত চন্দ) 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন