mother and son
অবশেষে মাকে ফিরে পেলেন ছেলে। নিজস্ব চিত্র।
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে হারানো মাকে ফিরে পেল ছেলে। অসমের কামরূপের বছর সাতাশির ললিতা দেবী কিছু দিন আগে স্থানীয়দের সঙ্গে পুরী থেকে ট্রেনে ফিরছিলেন। ফেরার পথে অসতর্কতার কারণে বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে দলছুট হয়ে হারিয়ে যান তিনি। ঘটনাচক্রে ৪ এপ্রিল বিষ্ণুপুর থানার এএসআই পরিমল মণ্ডল ও মহিলা কনস্টেবল তনুশ্রী কালিন্দী ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে থানায় আনেন। পরে বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসকের তৎপরতায় স্থানীয় ভড়া গ্রামে স্বামী রাসবিহারী দাস কাঠিয়াবাবা বৃদ্ধালয়ে ওই মহিলার থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মহকুমাশাসক সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষ্ণুপুর মহকুমাশাসকের দফতরের পেজে বৃদ্ধার ছবি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে বৃদ্ধার বর্তমান অবস্থানের কথাও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। ওই পোস্টে যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন ভারতীয় রেলের নতুন রেকর্ড! সাত দিনে ৫০০ স্টেশনে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ

আশ্রম সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধা বাংলা ভাষা বলতে না পারলেও বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে বেশ হাসিখুশিই ছিলেন তিন কন‍্যা ও একপুত্রের জননী ললিতা দেবী। বৃদ্ধাশ্রমের সম্পাদক বলাই চন্দ্র গরাই বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ওঁর ছেলে ও পরিবারের বাকি সদস্যরা মোবাইলে ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ ললিতাদেবীকে ওঁর ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়।”

Loading videos...
facebook post
হারানো বৃদ্ধার জন্য ফেসবুক পোস্ট। নিজস্ব চিত্র।

ললিতা দেবীর ছেলে বিপুলবাবুর কথায়, “পুরী থেকে মা না ফেরায় হাজার জায়গা ঘুরেও মায়ের সন্ধান পাইনি। অবশেষে ফেসবুক পোস্ট নজরে আসে। আর দেরি করিনি। মায়ের খোঁজ পেয়ে বিষ্ণুপুর মহকুমা শাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে সাহেবের অনুমতি নিয়ে ভড়া আশ্রমে মায়ের দেখা পাই।”

বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল বলেন, “বৃদ্ধ মহিলা পথ ভুলে বিষ্ণুপুরে চলে আসে। নিয়মমাফিক খোঁজখবর নেওয়া হয়। তার পাশাপাশি ফেসবুকেরও সাহায্য নিই। তার ফলেই এত তাড়াতাড়ি এটা সম্ভব হল।” মাকে ফিরে পেয়ে অসমের বিপুলবাবু বারংবার মহকুমাশাসক, আশ্রম কর্তৃপক্ষ ও ফেসবুককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.