দড়ি টানাটানি শেষ! আরও একটি পুরসভার চেয়ারম্যানকে সরাল তৃণমূল

0
Soumik Hossain

ওয়েবডেস্ক: অনাস্থা ভোটে হেরে ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যানপদ হারালেন সৌমিক হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা নিয়ে আসেন পুরসভার ১৫ জন কাউন্সিলার। বৃহস্পতিবার অনাস্থাভোটে অনুপস্থিত ছিলেন ছ’জন কাউন্সিলার। এমনকী ভোটের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হলেও এসে পৌঁছাননি সৌমিকও। যে কারণে, ১৫ কাউন্সিলারের অনাস্থার মুখে পড়ে পদ হারালেন তিনি।

বেশ কয়েক দিন রাজ্যরাজনীতির চর্চায় উঠে এসেছিলেন সৌমিক। বিশেষ করে লোকসভা ভোটের সময় তাঁর দলীয় টিকিট না পাওয়া নিয়ে একটি মহলে গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়। তবুও দলের হয়েই তিনি কাজ চালিয়ে গিয়েছেন এত দিন।

তৃণমূল সূত্রে খবর, সৌমিকের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্র, দুর্নীতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দলীয় নীতি অবমাননার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জেলার দলীয় পর্যবেক্ষক রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। গত ১৭ জুলাই সৌমিককে পদত্যাগ করতে বলেন শুভেন্দু।

কিন্তু বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও তিনি পদত্যাগ করেননি। এর পরই পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রদীপ চাকি তলবি সভা ডাকেন। সেখানে ১৫ জন কাউন্সিলার অনাস্থার কথা জানান।

ডোমকল পুরসভা এবং সৌমিক

পুরসভায় মোট ২১টি আসন। তার মধ্যে ১৩ জন কাউন্সিলর অনাস্থা এনেছেন। ফলে ডোমকলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর পঞ্চায়েত থেকে পুরসভায় উন্নীত হয় ডোমকল। তৈরি হয়েছে ডোমকল পুরসভা।

২০১৭ সালে প্রথম ভোটগ্রহণ হয় সেখানে। ২১টার মধ্যে ২০টা ওয়ার্ডে জিতে সেখানে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। পুরপ্রধান হন কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আবদুল মান্নান হোসেনের ছেলে সৌমিক। গত ১ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়।

লোকসভার অসন্তোষ!

প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের ছবি ধরা পড়েছিল মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রেও। স্থানীয় তৃণমূলের একাংশের দাবি, ওই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ছিল দলের অনেকেরই। যাঁদের মধ্যে সৌমিক হোসেন অগ্রাধিকার পেতেই পারতেন। কিন্তু সে সব কথা না ভেবে বছরখানেক আগে কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া আবু তাহেরকে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।

যদিও লোকসভা ভোটে অন্যান্য জেলার থেকে ওই জেলায় বেশ ভালো ফল করে তৃণমূল। সিপিএম এবং কংগ্রেসের কাছ থেকে একটি করে আসন ছিনিয়ে নেয় রাজ্যের শাসক দল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here