rahul-sinha

কলকাতা: কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশ জুড়ে সম্পর্ক ফর সমর্থন বা সম্পর্ক অভিযানে নেমেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। মূলত সমাজের প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বদের বাড়ি গিয়ে বিজেপি নেতারা তুলে ধরছেন সরকারের চার বছরের সাফল্যের খতিয়ান। সেই অভিযানে শুক্রবার বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। কিন্তু সৌমিত্রর মুখোমুখি হয়ে বেশ কিছু ‘অপ্রিয়’ প্রসঙ্গ তুলে নিয়ে আসায় রাহুল অস্বস্তিতেই পড়লেন।

বিগত চার বছরের কাজের খতিয়ান তুলে ধরার আড়ালে যে বিজেপি নেতৃত্ব আগামী ২০১৯-র লোকসভা ভোটের প্রচারের কাজটাও সেরে ফেলতে চাইছেন, তা স্পষ্ট। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাংলার বুদ্ধিজীবীদের কাছে বেশি করে পৌঁছতে হবে। রাহুলবাবু সেই উদ্দেশেই গিয়েছিলেন সৌমিত্রর বাড়িতে। সেখানে গিয়ে প্রাথমিক সৌজন্য বিনিময়ের পর সৌমিত্রবাবু তাঁকে বলেন, নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত ভালো লাগেনি। এই একটা সিদ্ধান্তই সাধারণ মানুষকে চরম অসুবিধার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

পাশাপাশি সৌমিত্রবাবু বর্তমান অসহিষ্ণু পরিস্থিতির উপরও বেশ কয়েকটি মন্তব্য করে বলে জানা গিয়েছে। বামপন্থী মনোভাবাপন্ন হিসাবে পরিচিত সৌমিত্রবাবুর সঙ্গে সিপিএমের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ময়দানে তাঁকে দেখা যায় না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দেওয়া বঙ্গভূষণ পুরস্কার প্রথমবার ফিরিয়ে দিয়েও পরে তা তিনি গ্রহণ করায় তাঁর প্রতি কেউ কেউ সাময়িক ভাবে বিরূপও হয়েছিলেন। তবে একাধিক বার নিজেকে বামপন্থায় বিশ্বাসী হিসাবে প্রকাশ করা সৌমিত্রবাবু যে নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঢংয়ে রাহুলবাবুর সমানে বিজেপির সমালোচনা করবেন, তা টের পাননি দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। যে কারণে, সৌমিত্রবাবুর সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসার সময় তাঁকে যথেষ্ট বিমর্ষ ঠেকেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here