খবরঅনলাইন ডেস্ক: পুজোর রেশ চলছে। প্রায় সবাই উৎসবের মুডে। সক্কালবেলায় বেজে উঠল মোবাইলের রিংটোন। ও প্রান্তে আর্তস্বর – “স্যার, কিছু একটা ব্যবস্থা করুন। হাসপাতালে রক্তের খুব অভাব। রক্ত না পেলে অনেক শিশুকে হয়তো বাঁচানো যাবে না।”

এ প্রান্তে যিনি ফোন ধরেছিলেন তিনি ভাঙড় কলেজের অধ্যাপক সুব্রত গোস্বামী। তিনি শুধু শিক্ষকই নন, লেফটেন্যান্ট। সামরিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। কলেজের এনসিসি-র (National Cadet Corps) প্রধান।

Loading videos...

সুব্রতবাবু জানালেন, ফোন এসেছিল টাটা ক্যানসার হসপিটাল থেকে। সেখানে চিকিৎসাধীন ছোট্ট শিশুরা রক্তের জন্য হাহাকার করছে। একে পুজোর সময়, তার ওপর করোনার আবহ। রক্ত সংগ্রহ প্রায় হচ্ছেই না। ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত নেই।

এর ফাঁকে সুব্রতবাবুর পরিচয়টা আর একটু পরিষ্কার করে জানানো যাক। উনি একজন সমাজসেবী। ওঁর পরিচালনায় গড়িয়া সহমর্মী সোসাইটি (Garia Sahamarmi Society) সারা বছর ধরে নানা সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে। ‘সহমর্মী’ নিয়মিত সুন্দরবন অঞ্চলে চিকিৎসা শিবিরের ব্যবস্থা করে। গড়িয়া অঞ্চলে চক্ষু অস্ত্রোপচার শিবিরের আয়োজন করে। প্রতি বছর রাজ্যের নানা অঞ্চলে দুর্গাপুজোর সময় কাপড় আর খাদ্য নিয়ে দুঃস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ায়। এ বছর ঘূর্ণিঝড় বিধ্বস্ত সুন্দরবনে বার বার ছুটে গিয়েছে ত্রাণসামগ্রী, চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে।

সক্কালে ফোনটা পেয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সুব্রতবাবু। জনে জনে ফোন করতে লাগলেন। জানাতে লাগলেন রক্ত দেওয়ার আর্জি। রক্ত দিতে হয়তো অনেকেই উৎসাহী, কিন্তু ভয়ে পিছিয়ে যাচ্ছেন – এটা করোনার সময়, এই সময় হাসপাতালে যাব?

রক্ত দিচ্ছেন সুব্রত গোস্বামী ও তাঁর পুত্র ঋষভ।

কিন্তু বেশি দেরি করা চলবে না। এখনই রক্ত চাই। শেষ পর্যন্ত তাঁর কলেজের ১২ জন অসমসাহসী এনসিসি ক্যাডেটকে পেয়ে গেলেন। আর সঙ্গী হল সুব্রতবাবুর পুত্র ঋষভ। ১৩ জনকে নিয়ে সুব্রতবাবু সাতসকালে হাজির হয়ে গেলেন টাটা ক্যানসার হাসপাতালে। সবাই রক্ত দিয়ে কিছুটা স্বস্তি পেলেন।

বাড়ি ফিরতে ফিরতে সুব্রতবাবু এই সময়টায় রক্তের এই নিদারুণ অভাবের কথাই ভাবছিলেন। ভাবছিলেন রক্তের এই সংকটের কী ভাবে মোকাবিলা করা যায়।  

তাঁর কথায়, “এই সময়ে রক্ত দিতে মানুষের এত ভয়! কিন্তু অনেকেই তো পুজোর আনন্দে নিজের মতো করে শামিল হতে পিছপা হচ্ছে না। হসপিটালে গেলে করোনা হবে, কিন্তু পুজোমণ্ডপে গেলে…। উওরটা আমার জানা নেই। কিন্তু স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটার জন্য আমাদের কিছু সন্তান আছে। একেই বলে নিঃস্বার্থ সেবা। এটাই তো এনসিসি-র অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধু বইয়ের পাতায় নয়, এরা জীবন বাজি রেখে বারবার প্রমাণ করে মানুষ মানুষের জন্য।”

সুব্রতবাবুর আবেদন – সবাই একটু ভাবুন, রক্তের সংকট দূর করতে এগিয়ে আসুন। রক্তদানের চেয়ে বড়ো পুণ্যকর্ম আর হয় না। এটা মানবতার পুজো। এর চেয়ে বড়ো পুজো আর কিছু নেই।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

মা ও শিশুসন্তানদের জন্য কাপড় ও খাবার নিয়ে হাওড়ার বালিতে ‘সহমর্মী’      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.