উম্পুন প্রলয়ের পরে: স্বাস্থ্য শিবিরই এখন ভরসা গ্রামবাসীদের

0
স্বাস্থ্য শিবির থেকে বেরিয়ে আসছেন মথুরাপুরের ৯৫ বছরের বৃদ্ধ রোগী।

দীপঙ্কর ঘোষ

আশা করি আপনাদের সকলের বাড়িতে বিজলি চলে এসেছে। বাতানুকুল যন্ত্র, পাখা, বিজলিবাতি সব‌ই চালু হয়েছে। হয়তো উম্পুন (cyclone Amphan) এখন স্মৃতিমাত্র। করোনাভীতি এখন প্রথম চিন্তা।

এর মধ্যেই কিছু মানুষ ঘাড়ে করে খাবার, ত্রিপল আর ওষুধ নিয়ে রেললাইন ধরে কিংবা সুন্দরবনের (Sundarban) নদীর বুকে নৌকোয় বা লঞ্চে করে চলেছেন উম্পুনে বিধ্বস্ত মানুষের কাছে। তাদের বাঁচার পথ দেখাতে। এঁরা স্বাস্থ‍্যশ্রমিক। বাচ্চা থেকে বুড়ো। কেউ বা অডাক্তার। যাঁরা সারা বছর ধরে অমানুষ পিশাচ হিসেবে চিহ্নিত। রোগীর মৃত্যু মানেই যাঁরা দোষী। এ ছাড়া সঙ্গে আছে নানা মানবতাবাদী সংগঠন।

বাড়ির কাছে মথুরাপুরের লালপুরে অথবা গোসাবা–গঁদখালি–ধনিয়াখালি-কুমিরমারী পেরিয়ে মাধবকাঠি (ভেসেলে নদী পেরিয়ে দেড় ঘণ্টার রাস্তা), রাঙাবেলিয়া, সন্দেশখালি, লাহিড়িপুর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শামশেরনগর, সাতরা অথবা নোনাডাঙা বস্তি, সল্টলেকের বস্তি – সর্বত্র এঁরা চেষ্টা করছেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। সব জায়গার নাম দেওয়া সম্ভব নয়, মনে রাখারও নয়।

এঁদের প্রাথমিক লক্ষ্য হল আপতকালীন ত্রিপল, খাবার, ওষুধ, চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া। পারুল গ্রামে এবং বহু জায়গায় ‘এক পরিবার এক হেঁসেল’ চলছে। যে যে ভাবে পারে কাজ করছে – কেউ রান্না করছে – কেউ পরিবেশন, তার পর এক সঙ্গে বসে খাওয়া। পারুলগ্রামে মূল উদ‍্যোক্তা পারুল আশ্রম।

প্রতি দিন প্রায় তিনশোরও বেশি ত্রিপল, প্রতি দিন বিভিন্ন গ্রামে চারশো মানুষকে খাওয়ানো, ওষুধ দেওয়া – চিকিৎসা করা – যেন এক কর্মযজ্ঞ চলছে শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ‍্যোগ আর ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের উদ্যোগে। দুই সংগঠনের উদ্যোগে বসেছে স্বাস্থ্য শিবির। সেখানে আসছেন ৯৫ বছরের রোগীও।

বেশির ভাগ কাঁচা বাড়িই ঝড়ে বিধ্বস্ত। পাকা বাড়ি মোটামুটি অক্ষত। জমি ভেসে গিয়েছে নোনা জলে। পুকুরে নোনা জল আর মরা মাছ, গবাদিপশু ভাসছে। তাই এই উদ‍্যোক্তারা পুকুর সংস্কারের কাজ‌ও শুরু করেছেন।

এখানে গ্রামবাসীরা ভেঙে যাওয়া হাতিবাঁধ নিজেরাই সারিয়ে নিচ্ছেন। হাতিবাঁধ হল চল্লিশ হাত উঁচু বাঁধ। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষা করেননি। কেননা দেরি হলে ভরা কোটালে বাকি সব জমিও নোনা জলে ডুবে যেত।

ওখানে গ্রামে একটা ওষুধ পাওয়া যায় না। ফলত রোগীরা ওষুধ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। একটা ইসিজি বা এক্স রে করতে কলকাতা বা কাছাকাছি বড়ো শহরে আসতে হয়। গোসাবা ব্লক ন’টা দ্বীপ নিয়ে তৈরি। অথচ একটা মাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্থানীয় হাতুড়েরাই মানুষের একমাত্র ভরসা। তাই এই উদ‍্যোগ সর্বহারা মানুষের প্রভূত উপকারে আসছে।

ভবিষ্যতে এই শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ‍্যোগ (SSU) আর ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের (WBDF) পরিকল্পনা –

১) একটা বা দু’টো গ্রাম বেছে নিয়ে আদর্শ গ্রাম হিসেবে তৈরি করে সরকারকে সমস্ত গ্রাম ওই ভাবে তৈরি করার অনুরোধ করা।

ক) পরিকল্পনামাফিক সমস্ত বাড়ি পাকা করা।

খ) সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করা।

গ) পরিকল্পনামাফিক বৃক্ষরোপণ।

ঘ) বাঁধ নির্মাণে সাহায্য করা।

ঙ) পানীয় জল এবং শৌচালয়ের ব‍্যবস্থা করা।

আমাদের সংবাদমাধ্যমে আমরা এই উদ‍্যোগের পূর্ণাঙ্গ খবরাখবর দিতে থাকব।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন