উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: দুই দেশের আইনি জটিলতায় এখনও আটকে ৮৯ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। তাঁরা চান দ্রুত নিজেদের দেশে ফিরে যেতে। আর এ ব্যাপারে দুই দেশের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ করে চলেছেন মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশন, সুন্দরবন সাউথ মৎস্যজীবী সংগঠন, কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশন-সহ একাধিক মৎস্যজীবী সংগঠন তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু মাছ ধরার ট্রলার ইলিশ মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল। আর এই সব ট্রলারে বহু মৎস্যজীবী ছিলেন। কিন্তু আবহাওয়ার চরম অবনতি হওয়ায় তাঁরা ফেরার চেষ্টা করেও কিছু করে উঠতে পারেননি।

১৬ তারিখে তারা মাছ ও ধরেছেন, কিন্তু ১৭ তারিখে আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ট্রলারের নিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জল ঢুকতে থাকলে জীবন বাঁচাতে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ওই মৎস্যজীবীরা। আর ভাসতে ভাসতে তাঁরা বাংলাদেশ জলসীমানা পেরিয়ে ভারতের জল সীমানায় চলে আসেন। কেউ বা ভেলায় ভাসতে ভাসতে কিনারার সন্ধানের খোঁজে কেউ বা আবার বাঘের ভয়ে জঙ্গলের গাছের উপর রাত কাটান।

বেশ কিছু মৎস্যজীবী আবার জলের তোড়ে হারিয়েও যান। আর ভারতের জলসীমানার বঙ্গোপসাগর থেকে ভারতীয় মৎস্যজীবীরা তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। ধাপে ধাপে তাঁদেরকে উদ্ধার করে কাকদ্বীপ, রায়দীঘি, মৈপীঠ ও ক্যানিংয়ের ঘাটে নামানো হয়। ১৯ আগস্ট ৪৬ ও ১১ জনকে এবং ২০ আগস্ট ১৭ ও ১৬ জন মিলিয়ে মোট ৯০ জনকে উদ্ধার করেন এই রাজ্যের মৎস্যজীবীরা।

প্রশাসন, স্থানীয় মানুষ ও মৎস্যজীবী সংগঠনের সহায়তায় তাঁদের এখনও কাকদ্বীপে ও রায়দীঘিতে মৎস্যজীবী সংগঠনের অফিসে এবং মৈপীঠের ভুবনেশ্বরীর ফ্লাড সেন্টার ও ক্যানিংয়ের মৌখালিতে এক মৎস্যজীবীর বাড়িতে রাখা হয়েছে।

সরকারি ও মৎস্যজীবী সংগঠনের উদ্যোগে তাঁদের নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া দেওয়া থেকে শুরু করে জামা কাপড় ও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রায়দীঘি মৎস্যজীবী সংগঠনের অফিসে ১১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের হাতে রায়দীঘি হর্কাস ইউনিয়নের পক্ষ থেকে কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ইউনিয়নের সম্পাদক বিশ্বনাথ সরদার-সহ মৎস্যজীবী সংগঠনের হারাধন ময়রা, অসীম দাসের মতো বেশ কয়েক জনের হাত দিয়ে। ফোনের মাধ্যমে বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলেও আইনি জটিলতায় এখনও বাড়ি ফিরতে পারছেন না তাঁরা।

রায়দীঘি ও মৈপীঠের কয়েকজন বাংলাদেশী মৎস্যজীবী জানালেন, “এখানকার সরকার ও মানুষ আমাদের খুব সহায়তা করছে। তবে আমরা চাই দ্রুত আমাদের দেশে ফিরতে।” তাঁরা সংবাদমাধ্যম মারফত বাংলাদেশের সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, তাঁদের যেন দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ভারত- বাংলাদেশ জলসীমানা আইন অনুযায়ী দেশে ফিরতে দু’দেশের আইনি কাগজপত্র তৈরির পক্রিয়া চলছে বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।

তবে এ ব্যাপারে শনিবার ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক জয়কৃষ্ণ হালদার বললেন, “আমরা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ হাইকমিশনারের অফিস গিয়ে সমস্ত কাগজপত্র জমা করে কথা বলে এসেছি, চিঠি দিয়েছি দুই দেশেরই বিদেশ দফতর, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী, এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ প্রশাসনিক দফতরে। ওঁদের দ্রুত ফিরিয়ে দিতে চাই আমরা। তবে দুই দেশের সরকার আইনি জটিলতা কাটিয়ে বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের দ্রুত বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিলে আমরা মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে চিরকৃতজ্ঞ থাকব”।

আরও পড়তে পারেন: 

১৪ দিনের মধ্যে নিজের দল ঘোষণা করবেন গুলাম নবি আজাদ, কাশ্মীর থেকে যাত্রা শুরু

গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বিএসএফ জওয়ানের ৭ দিনের পুলিশ হেফাজত, পথে নামছে তৃণমূল

সাইবার অপরাধের ঘটনা বেড়ে দ্বিগুণ, অনলাইন জালিয়াতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব

ডিএ, স্বচ্ছ নিয়োগের দাবিতে ২৯টি সরকারি কর্মচারী সংগঠনের মিছিল

ঝাড়খণ্ড সংকট! বিধায়কদের নিরাপদ আস্তানায় পাঠিয়ে দিল জেএমএম-কংগ্রেস

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন