দুর্যোগে ভাঙল নদীবাঁধ, নৌকা উলটে গেল সুন্দরবনে, এলাকা পরিদর্শনে জনপ্রতিনিধিরা

0
ভাঙল নদীবাঁধ। ছবি: প্রতিবেদক

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: ঘূর্ণিঝড় জওয়াদ-এর প্রভাব দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের কাকদ্বীপ মহকুমায় সবচেয়ে বেশি পড়েছে। নিম্নচাপ ও অমাবস্যার কোটালের জেরে নামখানার মৌসুনির বালিয়াড়াতে একশো মিটার নদীবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বিস্তৃীর্ণ এলাকা। চিনাই নদীর জল ঢুকে ভাসিয়ে দিয়েছে পুকুর, চাষের জমি-সহ নতুন গড়ে ওঠা হোমস্টে কটেজগুলিকে।

রবিবার সকালে জোয়ারের সময় সাগরের কচুবেড়িয়া ঘাটে নোঙর করা একটি পণ্যবাহী নৌকা মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যায়। তবে নৌকায় কোনো মানুষ ছিলেন না। সমস্ত ঘটনাতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতা দেখা গিয়েছে। সেচ দফতরকে দ্রুত বাঁধ মেরামতির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অমাবস্যার কোটাল থাকায় সুন্দরবনের নদী ও সমুদ্রে জলস্তর বেড়েছে, বকখালি ও গঙ্গাসাগরে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে। বেহাল বাঁধ টপকে আবারও জল ঢোকার আশংকায় সাগরের ঘোড়ামারা, ধবলাটের মানুষ। শনিবার রাতে গঙ্গাসাগরের সমুদ্রতটে জলোচ্ছ্বাসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্মীয়মাণ বাঁধ। বালি ও মাটি ধুয়ে সমুদ্রে মিশে গিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্লকস্তর থেকে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। মোতায়েন করা আছে চার কোম্পানি এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ দল। তবে আকাশ মেঘলা। সঙ্গে নাগাড়ে বৃষ্টি চলছে জেলাতে। উপকূলে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি। তাপমাত্রার পারদ অনেকটা নেমেছে। উপকূলে হালকা বাতাস বইছে। দুর্যোগের জন্য সুন্দরবনের গোসাবা, কাকদ্বীপ, সাগর, রায়দিঘি, পাথরপ্রতিমা, ডায়মন্ডহারবার-সহ জেলার সব ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাকদ্বীপ মহকুমার ওপর বেশি নজর রাখা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে জেলার ১৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে তুলে আনা হয়েছে। দেড়শোর বেশি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। বাঁধ এলাকার মানুষদের এখনও চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। সোমবার পর্যন্ত দুর্যোগের পূর্বাভাস থাকায় শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

নামখানার বিডিও শান্তনু সিংহ ঠাকুর বকখালি তট পরিদর্শন করেন। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বংকিম হাজরা শনিবারের পর রবিবারও সাগরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করলেন। কথা বললেন গ্রামবাসীদের সঙ্গে।

অন্য দিকে,সুন্দরবনের গোসাবায় নদীবাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে। চলছে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে বাঁধ মেরামতের কাজ। গোসাবা ব্লকের কুমিরমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের মৃধাঘেরি এলাকায় স্থানীয় কোরানখালি নদীর জলে মাটির বাঁধ ভেঙে জল ঢুকেছে। প্রায় দু’টি জায়গায় ২৫ মিটার নদীর বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। রবিবার ভাঙা বাঁধ মেরামতি করতে জেসিবি নামানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গোসাবার নবনির্বাচিত বিধায়ক সুব্রত মণ্ডল ও বিডিও বিশ্বনাথ চৌধুরী।

বাসন্তীর রামচন্দ্রপুরের হোগল নদী পাড় এলাকা পরিদর্শন করলেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। অমাবস্যার কোটালের টানে আরও জলস্তর বাড়তে থাকা ও ক্ষতির আশংকায় পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে প্রশাসন। জেলা শাসক পি উলগানাথন জেলার সার্বিক পরিস্থিতির উপর লক্ষ্য রেখে প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন।

আরও পড়তে পারেন:

নাগাল্যান্ডে গুলি চালানোর ঘটনায় পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ওড়িশা ছুঁয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে অতি গভীর নিম্নচাপ, আরও ২৪ ঘণ্টা ভারী বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে

চোর সন্দেহে ক্লাবে আটক ৬, পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে শুরু বিভাগীয় তদন্ত

জওয়াদ-এর জেরে মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরের যাত্রাপথ বদল

কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই জোটের কথা ভাবছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দাবি সঞ্জয় রাউতের

ডাইন অপবাদে মহিলাকে বেধড়ক মার পশ্চিম মেদিনীপুরে, হাসপাতালে ধুঁকছেন আক্রান্ত

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন