নদীতে মাছ ধরার পারমিট না মেলায় চরম সংকটে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা

0

উজ্জ্বল বন্দোপাধ্যায়, কুলতলি: জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। এই নিয়েই সুন্দরবন। সুন্দরবনের লক্ষাধিক মানুষ নদীতে বা খাড়িতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। আবার বেশির ভাগ মৎস্যজীবী সামান্য আয় করেন মীন ধরে। বর্তমানে তাঁদের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত। এর জন্য মৎস্যজীবীরা দায়ী করছেন বন দফতরকে।

কুলতলির মৈপীঠ থানার পূর্ব গুড়গুড়িয়ার কয়েক জন মৎস্যজীবী জানালেন, এই সুন্দরবনে লক্ষাধিক মৎস্যজীবী রয়েছেন। জঙ্গলের খাঁড়ি, নদী কিংবা সমুদ্রে মাছ ধরে তাঁদের জীবন চলে। মৎস্যজীবীদের মধ্যে অন্তত চার হাজার মহিলা মৎস্যজীবীও রয়েছেন। এঁদের সকলেরই পেটে এখন টান পড়েছে। কুলতলি ব্লকে ২০ হাজার মৎস্যজীবীর বসবাস। এই ব্লকের বাসিন্দা মৎস্যজীবীদের হাতে ১০ হাজারের মতো নৌকা রয়েছে। তবে নৌকা থাকলে কী হবে, বন দফতর মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে যাওয়ার পারমিট দিচ্ছে না। ফলে ৭৫ শতাংশ মৎস্যজীবীর হাতে পারমিট নেই। এ দিকে নদী, সমুদ্রে মাছ ধরতে নৌকা নিয়ে ভেসে না পড়লে অথবা খাড়িতে কাঁকড়া না ধরলে পেটের ভাত জুটবে না। এই পরিস্থিতিতে পারমিট না মেলায় ঘোর বিপদে মৎস্যজীবীরা।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের প্রায় প্রত্যেকেরই অভিযোগ, এই দুঃসহ পরিস্থিতি চলছে গত পাঁচ বছর ধরে। বহু মৎস্যজীবী মাছ ধরার পারমিটের জন্য আবেদন জানিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। এ দিকে মাছ না ধরলে জীবন চলে না।

জানা গেল, ২০১৯ থেকে ২০২০ সালে জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হানায় আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন মৎস্যজীবী। এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআরের জয়নগর শাখার সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল বলেন, “বাঘের হামলায় আক্রান্ত ২১ জন মৎস্যজীবী লকডাউনের সময়সীমায় মারা গিয়েছেন। সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়া তো দূরের কথা, বহু ক্ষেত্রেই পুলিশ, প্রশাসন এবং গ্রামের মোড়লদের একাংশের যোগসাজশে মৃতদের অনেকের লাশই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে যাবতীয় প্রমাণ”।

কেন পারমিট দেওয়া হচ্ছে না, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য বন দফতর থেকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়তে পারেন: Goa Environment Movement: গোয়া আওয়াজ তুলেছে, ‘কয়লার বিরুদ্ধে গোয়া’, ‘আমাদের নদী আমাদের অধিকার’

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন