হায় রে! ম্যানগ্রোভ কেটে বাড়ি তৈরি হচ্ছে কুলতলিতে

0
[ম্যানগ্রোভ নিধন করে পাকাবাড়ি নির্মাণের অভিযোগ। ফাইল ছবি]

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: রাজ্যে সরকার যখন সুন্দরবনকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে ঘটা করে সুন্দরবনে বিপুল পরিমাণে ম্যানগ্রোভ বসানোর কর্মসূচি পালন করছে, ঠিক সে সময়েই কুলতলিতে ম্যানগ্রোভ কেটে পাকা বাড়ি বানানোর অভিযোগ উঠল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, কুলতলির দেউলবাড়ি দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতলা নদীর ধার বরাবর কাটামারি বাজারের পাশে নির্মল বিমল সরদারের কাঠমিলের ঠিক বিপরীতে নদী লাগোয়া প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় ম্যানগ্রোভ কাটা হয়েছে। আর সেখানে এখন বিম দিয়ে পাকা বাড়ি বানানোর কাজ চলছে।

তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত ও বন দফতরকে বোকা বানিয়ে এই কাজ করছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সুন্দরবনকে বাঁচাতে এই এলাকায় বন দফতর থেকে ম্যানগ্রোভের চারা বসানো হচ্ছে অথচ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ম্যানগ্রোভ নিধন করছে। কয়েক দিন আগে বন দফতরের কুলতলি বিট অফিসার নিজে এসে এই গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়ে যান। তার পরে কয়েকদিন চুপচাপ থাকার পরে গত মঙ্গলবার থেকে আবার গাছ কাটা শুরু হয় এখানে।

বুধবার থেকে বৃষ্টির মধ্যেই এখানে বিম দিয়ে রীতিমতো পাকা বাড়ির কাজ চলছে। এ ব্যাপারে বন দফতরের রায়দীঘি রেঞ্জার স্বপন মণ্ডল বলেন, “ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে আমাদের আরও বেশি করে সচেতন হতে হবে। ঘূর্ণিঝড় উম্পুন ও ইয়াসে কুলতলির দেউলবাড়ি এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে ভেসে গেছে এলাকা। এর কারণ এই এলাকায় ম্যানগ্রোভ কেটে ফেলা হয়েছে অনেক। আমি এ দিনের গাছ কাটার খবর শুনে বিট অফিসারকে এলাকায় গিয়ে তদন্ত করতে বলেছি”।

কুলতলি বিট অফিসার গোলাম সেখ এলাকায় গিয়ে ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করেছেন বলে জানালেন। তবে তিনি বলেন, “আমি কয়েকদিন আগে ওই এলাকায় গাছ কাটার খবর পেয়ে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দিই। আবার তা কেন শুরু করল, তা আমি সরজমিনে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব”।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তথা দেউলবাড়ি দেবীপুরগ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিখিল বৈদ্য এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন। কুলতলির বিধায়ক গণেশচন্দ্র মণ্ডলের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কুলতলির বিডিও বীরেন্দ্র অধিকারী এই ঘটনার পূর্ণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সুন্দরবনকে বাঁচাতে আরও বেশি বেশি করে ম্যানগ্রোভ লাগানোর পরামর্শ দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। গত বছরের মতো এ বছরও ৫ কোটি ম্যানগ্রোভের চারা লাগানোর কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে গেলে আমাদের আরও অনেক ম্যানগ্রোভের চারা বসাতে হবে এবং এই ম্যানগ্রোভ কাটা আটকাতে হবে।

আরও পড়তে পারেন: ‘প্রকৃতির রোষ থেকে বাঁচাবে প্রকৃতিই’, ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন