উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: জয়নগর থানা এলাকায় অপরাধ কমাতে এ বার মুড়ে ফেলা হচ্ছে কম্প্রিহেনসিভ সি সি ক্যামেরা সিস্টেমে। এলাকায় অপরাধ কমাতে ও নজরদারি বাড়াতে বারুইপুর পুলিশ জেলার জয়নগর থানা এলাকায় কিছু দিনের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে এই সব ক্যামেরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, জয়নগর থানা ভবনের মধ্যে এর জন্য কন্টোল রুম খুলে মহড়া চলছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণও চলছে পুলিশ কর্মীদের। গাড়ি সিগন্যালিং ভাঙা থেকে শুরু করে, রাস্তায় ঘটে যাওয়া যে কোনো ধরনের অপরাধকে চিহ্নিত করতে সাহায্যে করবে এই সব ক্যামেরা। জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের সাংসদ তহবিলের ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০০ জোড়া ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে জয়নগর থানা এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে।

Loading videos...

জয়নগর মজিলপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তিলিপাড়ার শেষ প্রান্ত থেকে শুরু করে পুরসভার মজিলপুর বুড়োরঘাট, জয়নগর থানার গৌড়ের হাট, উওর দুর্গাপুর, বহড়ু ক্ষেত্র, দক্ষিন বারাসত গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলার মোড় পর্যন্ত এই ক্যামেরা লাগানোর কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “আমার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জয়নগর মজিলপুর পুরসভা ১৫০ বছর অতিক্রম করে ফেলেছে। তা ছাড়া বহু কৃষ্টি, সাহিত্য, সংস্কৃতির পীঠস্থান এই জয়নগর। বহু বিপ্লবী, মহান শিল্পীর জন্মস্থান এই জয়নগরে। কিছু দিন আগে জয়নগরের বহড়ুর প্রাচীন ভঞ্জ বাড়ির অষ্ট ধাতুর মূর্তি চুরি হয়ে যায়,তা ছাড়া বহু স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই এলাকার বহু মন্দিরের চুরি আটকাতে এবং এলাকার অপরাধ আটকাতে আমি আমার সাংসদ তহবিলের অর্থে এই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নিই”।

এই উদ্যোগের বিষয়ে সাংসদ বলেন, “আমার এই কাজে এগিয়ে আসেন জয়নগর থানার আইসি অতনু সাঁতরা ও জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের তৎকালীন বিডিও নৃপেন বিশ্বাস। জয়নগর থানা ভবনে এর জন্য কন্টোল রুম তৈরি করা হয়েছে। দক্ষ পুলিশ কর্মীরাই এই ক্যামেরাগুলো মনিটরিং করবেন। রাজ্য এই প্রথম সাংসদ তহবিলের অর্থে এই ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। করোনাপরিস্থিতিতে দুবছর আমাদের সাংসদ তহবিল বন্ধ। তাই ২০২২ সালে সাংসদ তহবিল পেলে আরও কিছু ক্যামেরা বাড়ানো যেতে পারে”।

জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের তৎকালীন বিডিও নৃপেন বিশ্বাস বলেন, “জয়নগর এলাকায় কাজের সুবাদে গিয়ে এলাকাকে ভালোবেসে ফেলেছিলাম। তাই সাংসদ ম্যাডামের এই ক্যামেরা লাগানো কাজে যতখানি পারা যায় সহায়তা করেছি। এই এলাকায় অপরাধ কমুক, জয়নগরের মানুষ ভালো থাকুক এই আশাই করব”।

জয়নগর থানার আইসি অতনু সাঁতরা বলেন, “থানা ভবনে এর কন্টোল রুম খুলে এখন মহড়ার কাজ চলছে। এলাকায় কোনো কিছু অপরাধ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর ফুটেজ আমাদের কাছে চলে আসবে। এবং উন্নত প্রযুক্তি সিস্টেমে সেই ফুটেজ চলে যাবে সেই এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশের কাছে। এলাকায় যে কোনো অপরাধমূলক কাজ আটকাতে সাহায্য করবে এই বিশেষ ক্যামেরা। খুব শীঘ্রই সাংসদ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন”।

এই ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে দেখে খুশি জয়নগর এলাকার কলেজ পড়ুয়া, ব্যবসায়ী,গাড়ি চালক, প্রবীণ মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। তাঁরা সবাই চান, জয়নগর অপরাধ মুক্ত শহর হিসাবে চিহ্নিত হোক।

আরও পড়তে পারেন: ‘মুখ্যমন্ত্রী তাড়াননি, আমিও দল ছাড়িনি’, রামনগরের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.