উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: বাঘের কামড়ে মৃত মৎস্যজীবী পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ালেন বিডিও। গত শুক্রবার সুন্দরবনের বেনোফেলির বালির চরে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের কামড়ে মৃত্যু ঘটে কুলতলির কাঁটামারির বাসিন্দা দিলীপ সরদার নামে এক মৎস্যজীবীর। মৃতের পরিবার বলতে তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই নাবালক পুত্র-কন্যা। তাঁর এই মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। একমাত্র উপার্জনকারী আজ নেই। এ বার কী করবেন তাঁরা, সেই চিন্তায় তাঁদের ঘুম চলে গেছে।

এ দিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বাঘের কামড়ে মৃত মৎস্যজীবীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হয় সরকারি খরচে। অথচ শনিবার দিলীপ সরদারের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে পরিবারের কাছ থেকে কুলতলি থানার গাড়ির ড্রাইভার সাড়ে ৫ হাজার টাকা নেন বলে কাঁদতে কাঁদতে অভিযোগ করেন মৃতার স্ত্রী শেফালি সরদার। এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর জয়নগর শাখার সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল মৃতের স্ত্রীর কাছ থেকে সব কিছু শুনে তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করেন কুলতলির বিডিও বীরেন্দ্র অধিকারীর সঙ্গে।

বিডিও সব কিছু শুনে তৎক্ষণাৎ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। আর সেই মতো সোমবার মৃত মৎস্যজীবীর স্ত্রীর হাতে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া সাড়ে ৫ হাজার টাকার মধ্যে চার হাজার টাকা ফেরত দেন এবং কিসান ক্রেডিট কার্ডের দু’লক্ষ টাকা পাইয়ে দেওয়া ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের এ হেন মানবিক কাজে খুশি মৃত মৎস্যজীবীর পরিবার। এ ব্যাপারে মিঠুন মণ্ডল বলেন, বিডিও সাহেবের এহেন মানবিক পরিচয় দেখে আমাদের ভালো লাগল। এ রকম গরিব মানুষদের পাশে ওনার মতো আধিকারিকের দরকার আছে। তবে আমরা চাইব আগামী দিনে কোন মৎস্যজীবীর বাঘের কামড়ে মৃত্যু ঘটলে তাদের অসহায় পরিবারদের কাছ থেকে ময়নাতদন্তের জন্য কোনো আর্থিক কিছু যেন নেওয়া না হয়।

বিডিও বীরেন্দ্র অধিকারী বলেন, “মানুষের পাশে থেকে তাদের সহায়তা করাই আমাদের কাজ। আমি সেটাই করেছি মাত্র”।

আরও পড়ুন: আবার সুন্দরবনের কুলতলিতে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু এক মৎস্যজীবীর, শোকের ছায়া পরিবারে

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন