সুন্দরবনের জঙ্গলে গিয়ে ফের জলদস্যুদের খপ্পরে, সর্বস্বান্ত কুলতলির ৭ মধু সংগ্রহকারী

0

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: বহুদিন পরে আবার জলদস্যুদের আক্রমণ শুরু হয়েছে সুন্দরবনে। এ বার জলদস্যুদের হাতে আক্রান্ত হলেন কুলতলির সাত মধু সংগ্রহকারী। এই ঘটনায় আতংকিত ওই মৌলেরা।

গত কয়েক দিন আগেই সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে জলদস্যুদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন গোসাবার বালি-১ পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ১১ জনের একটি মধু সংগ্রহকারী দল। তাঁদের বেধড়ক মারধর করেছিল জলদস্যুরা। কেড়ে নিয়েছিল সংগ্রহ করা মধু ও নৌকার অন্যান্য সামগ্রী। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহকারীদের উপর হামলার ঘটনা সামনে চলে আসায় নতুন করে আতংক ছড়াল।

সুন্দরবনের কুলতলির দেউলবাড়ির বাসিন্দা সাত জনের মৌলের উপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের মারধর করা না হলেও জঙ্গলে আটকে রেখে সর্বস্ব লুঠ করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা বন দফতরের কাছেও জানানো হয়েছে। ওই মৌলেরা শনিবার রাতে গ্রামে ফিরে এসেছেন।

গত ৮ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে সরকারি ভাবে। বনদফতরের বৈধ অনুমতি নিয়েই ৪৩টি দল এ বার সুন্দরবনের সজনেখালি থেকে গভীর জঙ্গলে রওনা দিয়েছিল নিজেদের জীবন হাতে নিয়ে। গত ৬ এপ্রিল কুলতলির দেউলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামনগর গ্রামের নরেন সর্দার-সহ ছ’জন মৌলে মধু সংগ্রহের কাজে বের হন। সজনেখালি বিট অফিস থেকে বৈধ অনুমতি নিয়ে ৮ তারিখে সুন্দরবনের জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে ঢোকেন। বাঘের ভয়কে উপেক্ষা করেই তাঁরা জঙ্গলে মধু সংগ্রহের কাজ করছিলেন। কিন্তু কে জানত বাঘের থেকেও আরও মারাত্মক হয়ে উঠবে দস্যুরা।

মৌলে নরেন সর্দার-সহ তাঁর সঙ্গীরা অভিযোগ করেন, গত চারদিন ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গল থেকে মধু সংগ্রহ করার পর গত মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎই দু’টি বোটে করে ২০ জনের একটি দস্যুর দল তাঁদের নৌকাকে ঘিরে ধরে। তখন তাঁরা ঘুমাচ্ছিলেন। সেই অবস্থায় তাঁদের আক্রমণ করে। ৭ জন মৌলেকে বেঁধে নৌকা সহ জঙ্গলের খাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে দেড় কুইন্টালের মতো সংগ্রহ করা মধু ও নৌকায় মজুত করা ১৫ দিনের খাদ্য লুট করে নেয়। শুধু তাই নয়, নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং দু’টি মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সারাদিন তাঁদের বনের মধ্যে আটকে রেখে বুধবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এর পর তাঁরা সুধন্যখালি এবং সজনেখালি বিট অফিসে ঘটনার কথা জানান। বন দফতরের উদ্যোগে অন্য বোটের সাহায্যে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে।

এপিডিআর, দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার সহ সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল এ প্রসঙ্গে রবিবার বলেন, “সরকার থেকে উপকূল থানাগুলো করা হয়েছিল নদী তীরবর্তী বা নদীতে গিয়ে জলদস্যু-সহ অন্যান্য বিপদ থেকে সুন্দরবনের মানুষকে রক্ষা করার জন্য। এমনকী নদী পথে দ্রুত অপরাধ আটকাতে স্পিড বোর্ডের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে নদী পথে বহুদিন টহলদারি বন্ধ কেন। কেন জলদস্যুদের হাতে সর্বস্ব খোয়াতে হল গরিব মধু সংগ্রহকারীদের। এই সব গরিব মানুষে অধিকার ফিরিয়ে দিতে তাই আমাদের আন্দোলন চলবে”।

তবে এ ব্যাপারে বন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

আরও পড়তে পারেন:

শীঘ্রই আসছে এলআইসি আইপিও, সংশোধিত ফেমা আইনের বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রের

এ বার ধস অসম কংগ্রেসে, জোড়াফুলে যোগ দিলেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি রিপুন বোরা

দলীয় কোন্দলে রাজ্য কমিটি থেকে ইস্তফা দুই বিধায়কের, বিজেপি-র রাজ্য সভাপতির প্রতিক্রিয়া, ‘শীঘ্রই সিদ্ধান্ত’

শুরু হচ্ছে ‘দিদিকে বলো ২’, সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন আমজনতা

কে কী খাবে ঠিক করে দেওয়া সরকারের কাজ নয়, মন্তব্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভির

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন