করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সুন্দরবনের কাঁকড়া চাষিরা দিশেহারা

0

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় এ বারে কপালে হাত পড়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁকড়া চাষিদের। করোনার এই প্রকোপ মহামারির আকার নিতেই চিন কাঁকড়া আমদানি বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে সুন্দরবনের আটটি ব্লকের চাষিরা এখন পড়েছেন চরম সমস্যায়।

রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষিদের পাশাপাশি সমস্যায় পড়েছেন খুচরো ও পাইকারি কাঁকড়া ব্যবসায়ীরাও। কাকদ্বীপের শ্যামল গুছাইত, নিমাই মাল-সহ কয়েকজন কাঁকড়া চাষি বলেন, “মরশুমের শুরুতে বিভিন্ন ফিসারিতে সামুদ্রিক কাঁকড়া চাষ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সেগুলি রফতানি না হওয়ায় কী হবে বুঝতে পারছি না”।

Loading videos...

এমনকি আদিবাসী পরিবারগুলিও জঙ্গলে কাঁকড়া সংগ্রহ করতে যেতে পারছে না। যেটুকু সংগ্রহ হচ্ছে, রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। ফলে ঠিকঠাক দাম না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। কুলতলির মেরিগঞ্জের খাদিজা, সালমা,পারভিনা,খুশবু কিংবা মৈপীঠের সোনালি, রুমাইয়া,কাজল-সহ স্থানীয় কয়েকজন জানালেন, কাঁকড়ার বিক্রি এ ভাবে মার খেলে তাঁদের অন্ন সংস্থান আটকে পড়েছে। কী হবে বুঝতে পারছেন না।

কুলতলির কাঁটামারি বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, জেলার সবচেয়ে বেশি কাঁকড়া চাষ হয় পাথর প্রতিমা ব্লকে। এ ছাড়া কুলতলি, নামখানা, কাকদ্বীপ, গোসাবা-সহ সুন্দরবনের আটটি ব্লকে এর চাষ করা হয়। পাথরপ্রতিমা ব্লকের ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে বেশির ভাগই নদী প্রধান। কে প্লট, এল প্লট, পাথরপ্রতিমা, জি প্লট, সীতারামপুর, বরদাপুর, ভাগবতপুর, লক্ষ্মীপুর, অচিন্ত্যনগর এলাকায় চাষ হয় কাঁকড়া।

সুন্দরবনের নদীর ধারের বাসিন্দারাই জঙ্গলে পাড়ি দেয় কাঁকড়া ধরতে। সমুদ্র কাঁকড়ার ব্যবসার মরশুম ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময় থেকেই করোনার দ্বিতীয় প্রকোপ দেখা দিতে থাকে। ফলে চিন কাঁকড়া আমদানী বন্ধ করে দেয়। চিনের বাজারে কাঁকড়ার দাম থাকলেও ছোটো, মাঝারি, বড় প্রকার সমুদ্র কাঁকড়া যাচ্ছে না সেখানে। ফলে যে কাঁকড়া ইতিমধ্যেই উৎপাদন হয়েছে সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বাজারে। যে কাঁকড়ার পাইকারি বাজারদর ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। তা এখন ৬০০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছে না। আবার যে কাঁকড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় কিলো প্রতি পাইকারি দরে বিক্রি হওয়ার কথা, সেই কাঁকড়া এখন মাত্র কিলো প্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই সুন্দরবনের অর্থনীতিতে গতবারের থেকেও খারাপ প্রভাব পড়েছে এই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে। গত বারের ধাক্কা সামলে ওঠার মাঝেই আবার এ বারের ধাক্কায় বিপুল লোকসানের বোঝা কী ভাবে সামলাবেন? এই চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কাঁকড়া চাষি ও ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়তে পারেন: দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী, সব থেকে খারাপ অবস্থা ১২টি রাজ্যে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.