আবার সুন্দরবনের কুলতলিতে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু এক মৎস্যজীবীর, শোকের ছায়া পরিবারে

0

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: আবার কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু ঘটল সুন্দরবনের কুলতলির এক মৎস্যজীবীর। বিকল্প কর্মসংস্থান এখনও পর্যন্ত তৈরি না হওয়ায় সুন্দরবনে বাঘের কামড়ে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, সুন্দরবনের কুলতলি ব্লকের দেউলবাড়ি দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁটামারি গ্রামের আদিবাসী যুবক দিলীপ সরদার (৩৫), বিপুল সরদার ও রঘু সরদার নামে দুই সঙ্গীকে নিয়ে গত রবিবার সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে যান। শুক্রবার সকালে তাঁরা সুন্দরবনের বেনোফেলির বালিরচর জঙ্গলে নেমে কাঁকড়া ধরার সময় আচমকাই পিছন থেকে দিলীপের উপর বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাঘ ওই মৎস্যজীবীকে তুলে নিয়ে যায়। তাঁর দু’জন সঙ্গী চিৎকার-চেঁচামেচি ও লাঠি নিয়ে বাঘকে সামনে থেকে তাড়া করলে বাঘ ওই মৎস্যজীবীকে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। আর তখনই দেরি না করে সঙ্গীর মৃতদেহ নিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন তাঁরা।

শনিবার সকালে ওই মৎস্যজীবীর মৃতদেহ কুলতলির কাঁটামারি গ্রামের বাড়িতে আসার পরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার-সহ গ্রামে। তাঁর বাড়িতে স্ত্রী, এক ১৬ বছরের মেয়ে,১২ বছরের এক ছেলে ও বৃদ্ধ মা রয়েছেন। একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে শোকে বিভোর সরদার পরিবার।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫ বছরে প্রায় সুন্দরবনের ১৫২ জন মৎস্যজীবীর উপর বাঘের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তাঁর মধ্যে মারা গেছেন শতাধিক। আর এ বছর এখনও পর্যন্ত সুন্দরবনে বাঘের কামড়ে ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন।

সুন্দরবনের বাঘে আক্রান্ত পরিবারগুলির পাশে থেকে কাজ করে চলেছে এপিডিআর নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা। এই সংস্থার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ-সম্পাদক মিঠুন মণ্ডল এ দিন বলেন, “বারবার বাঘের কামড়ে মৃত্যু ঘটে চলেছে। অসহায় পরিবারগুলি পাচ্ছে না কোনো সরকারি সাহায্য। বিকল্প কর্মসংস্থান যত দিন না, তাদের এই মৃত্যু মিছিল চলতে থাকবে। অবিলম্বে সরকারের উচিত সুন্দরবনের এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসার। দ্রুত তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা দরকার”।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, দুঃখপ্রকাশ মন্ত্রী অখিল গিরির

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন