২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুন্দবনে বাঘের আক্রমণে মৃত আরও এক মৎস্যজীবী

0
রয়েল বেঙ্গল টাইগার। প্রতীকী ছবি

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সুন্দরবন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার বাঘের কামড়ে মৃত্যু হলো এক মৎস্যজীবীর। এই ঘটনায় স্পষ্ট, বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে বাঘের কামড়ে মৃত্যু মিছিল বাড়তেই থাকবে সুন্দরবনে।

বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের জঙ্গলের নদীখাঁড়িতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছিলেন বাবুরাম রপ্তান নামে এক মৎস্যজীবী। সেই মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার ভেতরই আবার শুক্রবার সকালে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু ঘটলে এক মৎস্যজীবীর। মৃতের নাম রেজাউল গাজি ওরফে মুন্না (৩২)।

এ দিনের ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের ঝিলা রেঞ্জের ঝিলা ৪ নম্বর জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হেমনগরের পারঘুমটি এলাকার বাসিন্দা পেশায় মৎস্যজীবী মুন্না-সহ আরও ৪ জন মৎস্যজীবীর একটি দল নৌকা নিয়ে এ দিন ভোরে মাছ ধরার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল সুন্দরবনের নদীর খাঁড়িতে। সকালে তাঁরা মাছ ধরতে ধরতে ঝিলা ৪ নম্বর জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় চলে আসে।

সকাল ১০টা নাগাদ মৎস্যজীবী মুন্না সুন্দরবনের জঙ্গল ঘেঁসা নদীতে নেমে বাঁশের খুঁটি পুঁতে জাল বাঁধার কাজ করছিলেন। সেই সময় আচমকা সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে আসে। মুন্নার পিছন দিক থেকে ঘাড়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ও ঘাড়ে থাবা মারে। বাঘের থাবা খেয়ে ছিটকে নদীর চরে পড়ে যান মৎস্যজীবী মুন্না।

[নিহত মুন্না]

সেখান থেকে উঠে তিনি বেশ কিছুক্ষণ বাঘের সঙ্গে লড়াই করেন। বাকি মৎস্যজীবীরাও দেখতে পেয়ে নৌকার বৈঠা ও লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাঘের উপর। বাঘ শিকার ছেড়ে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। জখম মৎস্যজীবী মুন্নাকে নৌকায় তুলে জলপথে আনার সময় তাঁর মৃত্যু ঘটে।

পরপর দু’দিন বাঘের আক্রমণে দু’জন মৎস্যজীবীর মৃত্যু ঘটল এই ঝিলা জঙ্গল লাগোয়া এলাকায়। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প সুত্রে জানা গিয়েছে, ঝিলা ৪ নম্বর জঙ্গল এলাকায় মাছ ধরার সময় জঙ্গল থেকে একটি বাঘ বেরিয়ে এসে আক্রমণে করলে এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়। মৎস্যজীবীদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল। কিন্তু তাঁরা নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ ধরছিলেন। তবে কী ভাবে এমন ধরনের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন: সুন্দরবনে বাঘের কামড়ে মৃত আরও এক মৎস্যজীবী! লকডাউনে বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবিতে সরব এপিডিআর

কিন্তু বার বার এই ঘটনা বেড়ে চলেছে সুন্দরবনে। লকডাউনে কাজ হারিয়ে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকার মানুষ বারবার জঙ্গলের গভীরে চলে যাচ্ছে আর বাঘের কামড়ের শিকার হচ্ছে। তাই এদের বিকল্প কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করেন সুন্দরবনের বিভিন্ন স্বেচছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন