ধান ক্ষেতে ঘাপটি মেরে বসে আছে বাঘ, খাঁচায় ছাগল পুরে ধরার অপেক্ষায় বনকর্মীরা

0

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: আবার কুলতলির মৈপীঠের ধানক্ষেতে বাঘের আতঙ্ক। বাঘ ধরতে খাঁচায় দেওয়া হল ছাগল, মজুদ ঘুমপাড়ানি গুলি। বাঘ ধরার চেষ্টায় বনকর্মীরা।

পর পর বাঘের পায়ের ছাপে গ্রামে আতঙ্কের পর এ বার কুলতলির মৈপীঠের লোকালয়ে হানা দিলো সুন্দরবনের মহরাজা। ধানক্ষেতে লুকিয়ে আছে মহারাজ তাঁর রাজকীয় ভঙ্গিতে। বাঘ ধরতে সব আয়োজন প্রস্তুত বন দফতরের। বাঘের আতঙ্কে রাতের ঘুম উড়ে গেছে কুলতলির মৈপীঠের গুড়গুড়িয়া ভুবনেশ্বরী পঞ্চায়েতের ভুবনেশ্বরী চারশো বিঘা, নস্কর ঘেরি এলাকার গ্রামবাসীদের। আশপাশের এলাকার মানুষজন মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভিড় করেন শুধু মাত্র একবার বাঘের দর্শন পেতে। আর তার জন্য কেউ উঠেছেন গাছে কেউ বা রাস্তায়। সবার হাতেই মোবাইল।

এ দিন এই ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই এলাকায় চলে আসেন দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলার বনবিভাগীয় অতিরিক্ত আধিকারিক অনুরাগ চৌধুরী-সহ রায়দিঘি রেঞ্জার স্বপন মণ্ডল, নলগড়া, চিতুরি বিট অফিসার-সহ বন দফতরে একাধিক কর্মীরা। আনা হয় দু’টি খাঁচা। ধানক্ষেতের প্রায় ১০০ মিটার নেট দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।

এ দিন সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ চারশো বিঘা এলাকার বাসিন্দা মানসকুমার জানা, নস্কর ঘেরির বাসিন্দা প্রফুল্ল ভক্ত গ্রামের ইটের রাস্তার পাশে ধান ক্ষেতের পাশে তাঁদের জমিতে লকেট কড়াই তুলতে গিয়েছিলেন। তাঁরা বলেন, “সবে কড়াই তুলতে গিয়েছি দেখি ধানের শীষ নড়ছে। সরাতেই দেখি দিব্যি মহারাজের মতন বসে আছে বাঘ। ডোরাকাটা দাগ। গর্জনও করছে রীতিমতো। আতঙ্কে গা শিউরে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে এসে লোকজনকে ডাকি”।

তাঁদের চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে যায় ধান ক্ষেতের পাশে। আশপাশের গ্রাম থেকে ও লোকজন চলে আসে বাঘ লোকালয়ে ঢোকার খবর পেয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা পিন্টু মণ্ডল, তন্ময় মণ্ডল-সহ আরও কয়েকজন বলেন, কয়েক দিন আগে বাঘ মনসাতলা ও পূর্ব দেবীপুর গ্রামের কাছে এসেছিল। বাঘের পায়ের ছাপও দেখা গিয়েছে। আজমলমারি-১ নম্বর জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়েছিল তখন। নস্কর ঘেরির বাসিন্দা ভক্ত মণ্ডল বলেন, বিশ নম্বর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে শুকর খাওয়ার জন্য বেরিয়েছিল। শুকর ধরতেই ঠাকুরান নদীর শাখা সাঁতরে বাঘ লোকালয়ে চলে এসেছে। কুলতলি, মৈপীঠ উপকুল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে চলে আসে। পুলিশ এসে রাস্তা ও ধানের ক্ষেতের আশপাশ থেকে উৎসুক জনতাদের সরিয়ে দেয়। প্রথমে ধান ক্ষেতের চার দিকে জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। তারপর আনা হয় খাঁচা।

দুপুরে ক্ষেতের ভিতর থেকে গর্জন দিয়ে বাঘ এক বারের জন্য বেরিয়ে আবার ক্ষেতের ভেতর লুকিয়ে পড়ে। এই গর্জন শুনেই আতঙ্কে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। আবার এই দৃশ্য দেখতে গিয়ে অনেকেই পুকুরে পড়েও যায়। খাঁচার মধ্যে একটি ছাগল টোপ হিসেবে দেওয়া হয়। তারপরে বন দফতরের কর্মীরা খাঁচা শুদ্ধ ছাগলটিকে ক্ষেতের মধ্যে বসিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন বাঘের। রাস্তার উপরে ঘুমপাড়ানি গুলি নিয়ে তৈরি আছেন বন দফতরের অফিসার।

এ দিকে বিকাল গড়িয়ে সন্ধে হয়ে গেলেও বাঘের দেখা পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন বিভাগের অতিরিক্ত আধিকারিক অনুরাগ চৌধুরী বলেন, বাঘটির বয়স ৮ থেকে ১০ বছর হবে। জঙ্গল থেকে কোনো ভাবে বেরিয়ে এসেছে। তবে বাঘটিকে ধরা গেলে সুস্থ আছে কি না দেখে আবার জঙ্গলে ফেরত পাঠানো হবে।

এ ভাবে বাঘের ভয়েই হয়তো রাত কাটাতে হবে এই এলাকার মানুষদের।

আরও পড়তে পারেন:

প্রায় সব দাবি মেনে নিচ্ছে কেন্দ্র, বিক্ষোভ শেষ করতে চলেছেন কৃষকরা?

আপাতত স্বস্তি! কোকেন-কাণ্ডে জামিন পেলেন বিজেপি নেত্রী পামেলা গোস্বামী

খুব শীঘ্রই রাজ্যের বাকি পুরভোট, প্রশাসনিক বৈঠকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

পুরভোটে কেন কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়? জানতে চেয়েছিলেন রাজ্যপাল, জানিয়ে দিল কমিশন

দু’ধরনের ৫০০ টাকার নোট নিয়ে নয়া শোরগোল, কোনটা আসল? জানুন প্রকৃত ঘটনা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন