জুনের প্রথম ১৮ দিনেই স্বাভাবিকের থেকে ১০৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি পেল দক্ষিণবঙ্গ!

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দক্ষিণবঙ্গে ১০৩ শতাংশ বাড়তি, ঝাড়খণ্ডে বাড়তি ১০২ শতাংশ। হ্যাঁ, পরিসংখ্যান এটাই। জুনের প্রথম ১৮ দিনে স্বাভাবিক বৃষ্টির থেকে ঠিক এতটাই বেশি বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে।

পূর্বাভাস যা, তাতে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা থাকলেও ঝাড়খণ্ড এবং এ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে এখনও ভারী বৃষ্টি চলতে থাকবে দু’তিন দিন।

Loading videos...

কোথায় কেমন বৃষ্টি

গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে শহরে গত তিন দিনে ২৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে গেল। গোটা জুনে যেখানে তিনশো মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেখানে তিন দিনেই শহর পেয়ে গিয়েছে তার ৮৫ শতাংশ বৃষ্টি।

এই ২৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই কলকাতা যখন নাজেহাল, তখন বাঁকুড়ার বৃষ্টি পরিসংখ্যানে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় বাঁকুড়ায় বৃষ্টি হয়েছে ৮৮ মিলিমিটার। এর ফলে গত তিন দিনে এই শহরে মোট বৃষ্টি হয়েছে ৪১৮ মিলিমিটার।

এ দিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এই জায়গাগুলি হল হলদিয়া (১৭২ মিমি), আসানসোল (১৪০ মিমি), পানাগড় (১৩৬ মিমি), কাঁথি (১৩০ মিমি)। এ ছাড়া, ভারী বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বাকি অঞ্চলেও।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য বলছে, জুনের প্রথম ১৮ দিনে দক্ষিণবঙ্গে সব জেলাতেই বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে ৬০ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় দুশো শতাংশ বাড়তি বৃষ্টি পেয়ে গিয়েছে।

কেন এই বৃষ্টি

মূলত তিনটে কারণে এই অতিবৃষ্টি হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে। দুটি ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমি অক্ষরেখা।বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটি ঘূর্ণাবর্ত পূর্ব উত্তরপ্রদেশে অবস্থান করছিল। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে ছিল আরও একটি। এই দুই ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল একটি মৌসুমি অক্ষরেখা। এই দুই ঘূর্ণাবর্তের ফলে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছিল অক্ষরেখাটি।

এর ফলে বঙ্গোপসাগরে থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে জলা হতে থাকে। এর ফলেই তৈরি হয় বর্ষার মেঘ, যা ব্যাপক বৃষ্টি নামিয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। গত তিন দিনে দক্ষিণবঙ্গে যা বৃষ্টি হয়েছে, সাম্প্রতিক অতীতে তা হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগামী দিনের কী পূর্বাভাস

শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের ঘূর্ণাবর্তটি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের ঘূর্ণাবর্তটি সরে গিয়েছে বাংলাদেশের দিকে। এর ফলে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের পক্ষে কিছুটা ভালো খবর রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিপদ বাড়তে পারে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে।

নিম্নচাপটি দক্ষিণপশ্চিম বিহারে অবস্থান করায় সে এখন প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গোপসাগর থেকে টেনে আনবে। এর জেরে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি চলতেই থাকবে। এমনকি কোথাও কোথাও চরম অতিভারী বৃষ্টিও হতে পারে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ঘূর্ণাবর্তটিও নিজের দিকে জলীয় বাষ্প টানবে, তবে তার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না।

তাই মনে করা হচ্ছে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মূলত মাঝারি বৃষ্টিই হতে পারে। তবে অল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা এক্কেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও ব্যাপক বৃষ্টি চলতে থাকবে।

আরও পড়তে পারেন মামলাকারী অনুপস্থিত, এক সপ্তাহ পিছিয়ে গেল নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.