specially able person honoured
বিশেষ ভাবে সক্ষমকে সম্মান। নিজস্ব চিত্র।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: ওরা সত্যিই অপরাজেয়। শরীরে যতই প্রতিবন্ধকতা থাক না কেন ওরা এগিয়ে চলেছে ওদের আপন ছন্দে। জীবনে চলার পথে অন্যদের মতোই স্বাভাবিক হওয়াই ওদের জীবনের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ওরা এগিয়ে চলেছে। এ রকম দশ জনকে সোমবার বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে সন্মানিত করল জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন। এঁদের মধ্যে একজন হলেন মা, যিনি তাঁর প্রতিবন্ধী শিশুপুত্রকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজয় প্রসাদকে ছোটোবেলায় হাওড়া স্টেশন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া গিয়েছিল। তার দু’ হাতে মাত্র তিনটি আঙুল। তার পর থেকে তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মোহিতনগর শাখায় বড়ো হয়ে উঠেছেন। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। সেই অবস্থায় তিনি আঁকা শিখেছেন। তিনি এখন আঁকার শিক্ষক। তাঁর আঁকা ছবির প্রদর্শনী দেশের নানা শহরে হয় এবং ছবি বিদেশেও যায়। ভানু বিশ্বাস চোখে দেখেন না। কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এ রকমই ওয়াসিম আকরম হক। তিনিও বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তবে ওয়াসিম দৃষ্টিহীন নন, শারীরিক দিক থেকে তিনি পুরোপুরি প্রতিবন্ধী। তাঁকেও হুইলচেয়ার ব্যবহার করতে হয়। মৌমিতা তালুকদারের ডান হাতে দু’টো আঙুল নেই। তাই নিয়ে তিনি ওড়না চাদর ইত্যাদি বানান।

অভিষেক বসু শ্রবণ-প্রতিবন্ধী। কিন্তু তিনি প্রতিবন্ধীদের ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় রাজ্য এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জলপাইগুড়ির কাছে ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগানের বাসিন্দা কসমস কুজুর শারীরিক প্রতিবন্ধী। বগলে স্ক্র্যাচ নিয়ে তাঁকে চলাফেরা করতে হয়। তাও তিনি হেরে যেতে রাজি নন। ধূপকাঠি বিক্রি করে তিনি অর্থ উপার্জন করেন। মিলন রায় স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠেননি। উচ্চতা একেবারেই কম। সীমান্তবর্তী সাতকুড়ার মোহন্তপাড়ায় তিনি একটি মুদির দোকান চালান। কিশোর রয়েল মহ: চোখে দেখতে পায় না। কিন্তু গানের গলা ভালো। সে নিয়মিত গানের চর্চা করে। ভবিষ্যতে একজন সংগীতশিল্পী হওয়ার ইচ্ছে তার আছে।

এ ছাড়াও আছেন একজন মা। তাঁর নাম মল্লিকা বেপারি। তাঁর ছেলে তুহীন একেবারেই ছোটো। এখনও কোল থেকে নামেনি। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী ছেলেকে স্বাভাবিক করার জন্য নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সংগ্রামকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁকে দেওয়া হল অপরাজেয় সন্মান।

আরও পড়ুন একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে জলপাইগুড়িতে পালিত হল বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস

জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের প্রতিবন্ধীদের স্কুলের অধ্যক্ষা স্বাতী মিত্রমজুমদার বলেন, “ওরা নিজের পরিশ্রমে যে ভাবে নিজেদের নিয়ে এগিয়ে চলেছে তা প্রশংসনীয়। আমরা ওদের সামান্য সহায়তা করছি মাত্র।”

‘অপরাজেয়’ সম্মানে ভূষিত প্রত্যেকের হাতে একটি প্রশংসাপত্র, একটি স্মারক এবং একটি কম্বল তুলে দেওয়া হয়। জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সহকারী সম্পাদক অজিতবন্ধু ধর তাঁর প্রয়াত পিতা অমিয়বন্ধু ধর এবং প্রয়াত দিদি পূর্ণিমার স্মৃতির উদ্দেশে উপহার সামগ্রীগুলি দেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here