শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতেও ইতি পড়ল না শিক্ষকপদে চাকরিপ্রার্থীদের অনশনে

0
SSC
বৃহস্পতিবার অনশনকারীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী

ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরেও অধরা রইল সমাধান। যার জেরে কলকাতার ধর্মতলায় শিক্ষকপদপ্রার্থীদের আমরণ অনশন আগের মতোই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অনশনকারীরা।

জানা গিয়েছে, এ দিন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন এসএসসি প্রার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল। কিন্তু পার্থবাবুর সঙ্গে কথোপকথনে নিয়োগ নিয়ে কোনও লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। ওই প্রতিনিধি দল যথারীতি অনশনস্থলে ফিরে এসে গত ছ’দিনের অনশনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী এমন কিছু বলেননি যাতে আশার আলো দেখা যায়। ফলে যতদিন না সরকারের তরফে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তত দিন তাঁরা অনশন চালিয়ে যাবে।

উচ্চ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার থেকে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনশনে বসেছেন কমবেশি ৪৫০ জন পরীক্ষার্থী। পরে বিভিন্ন জেলা থেকে অনশনে যোগ দেন অসংখ্য পরীক্ষার্থী।অনশনের তৃতীয় দিনে মঞ্চে অনশনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। অনশনকারীরা তাঁর কাছে অভিযোগ করে বলেন, মেরিট লিস্টে নাম থাকা সত্ত্বেও চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। তখনও তিনি অনশনকারীদের মৌখিক আশ্বাস দেন।

[ আরও পড়ুন: ২৫ দিন অনশনরত রাজবন্দি অনুপ রায়ের চিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ ]

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন অনশনকারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন রাজ্যের সিপিএম এবং বিজেপি নেতৃত্ব।

ssc job seekers' hunger strike
অনশনে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা। ছবি রাজীব বসু।

কী বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী ও এসএসসি চেয়ারম্যান

মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী, এসএসসির চেয়ারম্যান এবং আন্দোলনকারীদের পাঁচ প্রতিনিধি। বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ওদের সব বক্তব্যই আমরা ভালো ভাবে শুনেছি। যাদের যোগ্যতা আছে তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তারা নিশ্চয়ই ইন্টারভিউয়ে ডাক পাবেন। সেই ইন্টারভিউয়ে সফল হলেই চাকরি পাবেন।”

এসএসসির চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার বলেন, “ওরা যে ভ্যাকান্সি আপডেট করার কথা বলছে, সেটা করবে শিক্ষা দফতর, এসএসসি নয়। এসএসসির কাছে শূন্য আসনের অনুমোদন এলেই আমরা চাকরির ব্যবস্থা করে দেব।”

আন্দোলনকারীদের মধ্যে মূলত রয়েছেন নবম ও দশম শ্রেণি, শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য চাকরিপ্রার্থীরা। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য চাকরিপ্রার্থী আন্দোলনকারীদের দাবি, তৃতীয় কাউন্সেলিং দ্রুত শুরু করতে হবে। এ প্রসঙ্গে সৌমিত্রবাবু বলেন, দ্রুত তৃতীয় কাউন্সেলিং শুরু করা হবে। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই শুরু হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাশাপাশি নবম ও দশম শ্রেণির কাউন্সেলিংও শুরু হবে।

বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণিতে ২৬০০ পদ ফাঁকা আছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ফাঁকা আছে ৮২২টি পদ। নবম ও দশম শ্রেণির শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষার ক্ষেত্রে এসএসসি অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে। তার ভিত্তিতে বোর্ড নিয়োগও শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। কিন্তু আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় নিয়োগপ্রক্রিয়া বন্ধ আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.