kolkata winter

কলকাতা: সেই যে নতুন বছর শুরু হওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকের নীচে নেমে গিয়েছিল পারদ, এখনও সেই অবস্থায় বজায় রয়েছে কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে। তুলনায় কিছুটা বেড়েছে উত্তরবঙ্গের পারদ। শীতের এই স্থিতাবস্থা ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস।

গত চার বছরের মধ্যে সব থেকে ভালো শীত চলছে এ বার গোটা রাজ্য জুড়েই। ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে গত দু’সপ্তাহের মধ্যে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সব থেকে বেশি উঠেছিল ১২.৭ ডিগ্রিতে। অর্থাৎ অন্য বার যে তাপমাত্রাতে নামতেই পারে না কলকাতা, এ বার সেই তাপমাত্রাটাই ছিল গত সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে সব থেকে বেশি। এ বার শীত কেমন চলছে, এই একটা পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার। শনিবার কলকাতার সর্বনিম্ন পারদ ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের থেকে যা দু’ডিগ্রি কম।

শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গেও একই খেল দেখাচ্ছে শীত। গত দু’সপ্তাহ ধরে দশের নীচে বা দশের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করেছে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার তাপমাত্রা। শনিবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব অঞ্চলেই তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রির আশেপাশে। অন্য দিকে, গত কয়েক দিনের থেকে শনিবার উত্তরবঙ্গের জায়গাগুলির তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও সেখানেও প্রবল শীত অব্যাহত।

গত দু’সপ্তাহ ধরে বজায় থাকা শীতের এই স্থিতাবস্থা এ বার ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে উত্তর ভারতের দিকে আসা একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকে।

এই মরশুমে শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে উত্তর ভারতের পাহাড়ে সে ভাবে বরফের দেখা নেই। আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকায় ইয়োরোপ থেকে ঠান্ডা হাওয়া ভূমধ্য সাগর পেরিয়ে বয়ে আসছিল পশ্চিমবঙ্গের দিকে যার ফলে হুহু করে নামছিল শহরের পারদ। কিন্তু এ বারের পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি বেশ শক্তিশালী। এর প্রভাবে সমগ্র উত্তর ভারত জুড়ে বৃষ্টি এবং কাশ্মীর, হিমাচল, উত্তরাখণ্ড, নেপাল, সিকিম, ভুটান, অরুণাচল এমনকি এ রাজ্যেও তুষারপাতের সম্ভাবনা দেখছেন রবীন্দ্রবাবু। এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলেই আটকে যাবে উত্তুরে হাওয়া। এমনকি সরস্বতী পুজোর পরের দিন জলীয় বাষ্প মাখা দখিনা বাতাসও ঢুকে পড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গে।

রবীন্দ্রবাবুর কথায়, “আগামী তিন দিন কলকাতার পারদ ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। রাজ্যের বাকি অংশে তাপমাত্রা থাকবে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে। তবে ২৪ তারিখ থেকে ২৬ তারিখ পর্যন্ত পারদ বাড়বে রাজ্য জুড়ে। কলকাতার তাপমাত্রা পৌঁছে যেতে পারে ১৬ ডিগ্রিতেও।” কিন্তু এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব থেকে মুক্তি পেলেই ফের আর এক দফা পারদ পতন হবে রাজ্যে। রবীন্দ্রবাবুর কথায়, সামনের সপ্তাহে শেষের দিকে ফের ১২ ডিগ্রিতে নেমে যেতে পারে পারদ।

শীতের এই স্থিতাবস্থা ভাঙার পূর্বাভাসে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ রবীন্দ্রবাবুর মাথায়। তাঁর মতে, এই আবহাওয়ার ফলে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশির প্রকোপ দেখা দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here