বাসন্তীতে বাঘ-আক্রান্ত পরিবারের ছেলেমেয়ের শিক্ষার দায়িত্ব নিল ‘স্টাফ’, পাশে জেনেসিস এডুকেশনাল ট্রাস্ট

0
310

পাপিয়া মিত্র: সুন্দরবনের জলে-জঙ্গলে বিপদের মুখোমুখি হয়ে বাস করাটাই যাঁদের জীবনের নিয়তি, তাঁদের সংসারে পড়াশোনার মতো বিলাসিতার কথা ভাবাই যায় না। যেখানে সুস্থ জীবনের ঘেরাটোপে দিন চলছে কোনো মতে, সেখানে ঘন জঙ্গলের অন্ধকার যেন ঝুপ করেই নেমে আসছে প্রতিনিয়ত। দক্ষিণ ২৪ পরগণার বাসন্তী ব্লকের এ ছবি যেন মুছে যাওয়ার নয়।

সুন্দরবনের বাঘে-মানুষে এবং কুমিরে-মানুষের নিরন্তর লড়াই আজ সর্বজনবিদিত। জঙ্গলে কাঠ, মধু আর নদী-খাড়িতে মাছ কাঁকড়া ধরতে গিয়ে যাঁরা আর সংসারে ফিরে আসতে পারেননি, তাঁদের সংসারগুলি আজ চরম সংকটে। এক দিকে যেমন অন্ন-বস্ত্র ও বাসস্থানের প্রয়োজন পাশাপাশি প্রয়োজন শিক্ষারও। ফলস্বরূপ দেখা যাচ্ছে পেটের তাগিদে মায়েরা যেমন ডিঙি নৌকা নিয়ে জলে যাচ্ছেন তেমনই জঙ্গলে ঢুকছেন বহু বিধবা-মা। অশক্ত মায়েরা নেমে পড়ছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে আবার কেউ কেউ ফাঁদে পা দিয়ে বিপথগামী হচ্ছেন।

বাসন্তীর ঝড়খালি, ত্রিদিবনগর, গোসাবার বালি, আমলামেথি, মথুরাখণ্ড, পাখিরালয়, দয়াপুর, সাতজেলিয়া, লাহিড়ীপুর-সহ নানা জায়গা ঘুরে বাঘ-আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলে মায়েদের একত্রিত করেন বাসন্তী হাইস্কুলের ইংরাজির শিক্ষক অমল নায়েক। তাঁদের দুরবস্থার কথা জেনেছেন। যখন যেমন দেখেছেন, তখনই সেই ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন সস্ত্রীক। ২০১৫ থেকে ভাবনাকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন। স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে তৈরি করেছেন ‘সেভ টাইগার অ্যাফেক্টেড ফ্যামিলি’ বা ‘স্টাফ’।

এ বার এই ‘স্টাফ’-এর কাজ ছিল সেই সব মায়ের ২৫ জন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া। মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আবার লেখাপড়ার জগতে ফিরে আসার আনন্দে মা ও সন্তানদের অনেকের চোখে জল। পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন ‘জেনেসিস এডুকেশনাল অ্যান্ড চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’এর কর্ণধার ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়। সম্প্রতি অমল নায়েকের নিজস্ব সেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘চম্পা মহিলা সোসাইটি’র প্রাঙ্গণে এই শুভ কর্মকাণ্ডের সূচনা হয়। ২৫ জন পড়ুয়ার হাতে এককালীন ২৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এর পর থেকে প্রতি মাসে দু’শো টাকা করে টিউশন বাবদ দেওয়া হবে। এই টাকা পেয়ে আমলামেথির জিতু মণ্ডল, বালির লাবণি বিশ্বাস, ঝড়খালির জয়ন্তী গায়েন, লাহিড়ীপুরের রত্না বৈদ্য স্বভাবতই আনন্দিত। তাঁরা জানালেন, বাবাকে হারিয়ে আজ পাশে পেয়েছেন ডাক্তারবাবু ও স্যারকে। একই সঙ্গে মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় মশারি, নতুন পোশাক, ছাগল-মুরগি ও নানা ধরনের বীজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমা শাসক অদিতি চৌধুরী, বিডিও কল্লোল বিশ্বাস, ডাঃ পূর্ণেন্দু রায়, অমল নায়েক, বিশিষ্ট শিক্ষক প্রভুদান হালদার, হরিপদ বৈদ্য প্রমুখ।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here