দার্জিলিং: পাহাড়ের রানি দার্জিলিং-এর দ্রষ্টব্যস্থানগুলি মানচিত্রে এ বার ঢুকে পড়তে চলেছে লালকুঠি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে লালকুঠিকে পর্যটনের মূল কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে চলেছে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)।

আগেও বেশ কয়েক বার দার্জিলিং এসে লালকুঠিকে হেরিটেজ স্থান হিসেবে পর্যটকের সামনে তুলে ধরার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার নেতাজির জন্মদিবস উপলক্ষ্যেও পাহাড়ে গিয়ে একই কথা জিটিএ প্রধান বিনয় তামাংকে মনে করিয়ে দেন তিনি।

তাঁর প্রস্তাব মেনে সেই কাজ শুরু করে দিয়েছে জিটিএ। ইতিমধ্যেই আর্কিটেক্ট ডেকে সংস্কারের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। তার প্রস্তাব মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি লালকুঠির ঠিক পাশেই, জিটিএর নিজস্ব জমি রয়েছে, তাতে একটি পূর্ণাঙ্গ টুরিস্ট লজ তৈরি করার উদ্যোগ নিচ্ছে জিটিএ। তার জন্য প্রাথমিক প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। তা পাঠানো হয়েছে নবান্নে। সেখান থেকে প্রস্তাব পাস হয়ে এলে টেন্ডার ডেকে দ্রুত কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। আগামী মরশুম থেকেই যাতে পর্যটকরা এই আবাসে থাকতে পারেন, তার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন বৃষ্টির মেঘ সরলেই জব্বর শীতের জালে জড়াবে দক্ষিণবঙ্গ

লালকুঠির আসল নাম গৌরী বিলাস। রানি ভবানী দেওয়ান রায়কে উৎসর্গ করে এটি তৈরি করেছিলেন কোচবিহারের তৎকালীন রাজা প্রসাদনারায়ণ রায়। রাজা ও রানি একাধিকবার সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। যাতে আমন্ত্রণ জানানো হত ব্রিটিশ শাসকদেরও। ১৯৪২ সালে এই বাড়িটি ব্রিটিশদের হাতে আসে। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশরা ভারত ছাড়ার পর ধীরে ধীরে এটি পরিত্যক্ত বাড়িতে পরিণত হয়।

বাড়িটি ভারত সরকার অধিগ্রহণ করলে প্রথমে ডিজিএইচসি এবং পরবর্তী কালে জিটিএ-এর প্রধান কার্যালয় হয়। একাধিক হিন্দি এবং বাংলা সিনেমার শুটিং হয়েছে এই বাড়িতে, যার মধ্যে অন্যতম ড্যানি ডেনজংপা এবং তনুজা অভিনীত লালকুঠি।

দার্জিলিং চিড়িয়াখানা, মাউন্টেনিয়ারিং ইস্টিটিউট, তেনজিং রক, হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেটের মতোই লালকুঠিকেও দার্জিলিং-এর অন্যতম দ্রষ্টব্যস্থান হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর জিটিএ এবং রাজ্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here