panchayet

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে প্রথম পঞ্চায়েত নির্বাচনে গ্রাম বাংলা প্রায় বিরোধীশূন্য হয়ে গিয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর সেই অবস্থা ফিরে এসেছে। আর এই বিপুল জয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা সেরে ফেলল পঞ্চায়েত দফতর। আগামী পাঁচ বছরে গ্রাম বাংলার উন্নয়নে আরও জোর দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েতগুলোতে টাকা খরচের লক্ষ্যমাত্রা গত পাঁচ বছরের থেকে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্চায়েত দফতর।

গত পাঁচ বছরে এক একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বছরে উন্নয়নের জন্য গড়ে সাড়ে তিন কোটির কিছু বেশি টাকা খরচ করা হয়েছে। এবারে বার্ষিক গড় খরচের পরিমাণ ১ কোটি টাকা বাড়াতে চলেছে রাজ্য সরকার।

কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যসাথী, গ্রামীণ কর্মসংস্থান, ১০০ দিনের কাজ, সবুজ সাথী, গ্রামীণ রাস্তা- এই সমস্ত প্রকল্পে আগামী পাঁচ বছরে আরও জোর দেওয়া হবে। পাশাপাশি প়্ঞ্চায়েত এলাকার মানুষের জন্য আরও কী কী নতুন প্রকল্প নেওয়া যায়, তার পরিকল্পনা করতে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকার মনে করছে, গত পাঁচ বছরে গ্রাম বাংলার উন্নয়নে যে বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে, তার মধ্যেই রয়েছে পঞ্চায়েতে বিপুল জয়ের চাবিকাঠি।

কেন্দ্র ও রাজ্যের ২৫টি প্রকল্প মিলিয়ে পাঁচ বছরে মোট ৫৯,২৪৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে গোটা রাজ্যে।

panchayet chart
পাঁচ বছরে খরচের খতিয়ান

 

বিধানসভায় বড়ো জয় পেয়ে রাজ্যে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর মমতা সরকার পঞ্চায়েতেও নিরঙ্কুশ। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী জোট কেন্দ্রে যেভাবে পেকে উঠছে, তাতে বিজেপি সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পেলে ২০১৯-এ নতুন জোট সরকার ক্ষমতায় আসতেই পারে। যদি কংগ্রেসের আসন সেভাবে না বাড়ে, তবে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসতে পারেন কোনো আঞ্চলিক দলের প্রধান। আর আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে মমতার গ্রহণযোগ্যতা খুবই ভালো। তাই মমতা মুখে কিছু না বললেও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের রাজ্যের সবকটি আসন জিততে মরিয়া। সেই কারণেই পঞ্চায়েতে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে কোনো কার্পণ্য করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী, ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here