কলকাতা : সম্প্রতি সাত জন শবরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ ওঠে অনাহারের মৃত্যু হয়েছে ওই শবরদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য সাফ জানিয়ে দেন, অনাহারে কারো মৃত্যু হয়নি। শবর, বিরহো, টোটো প্রভৃতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অবস্থা জানতে গত ২১ এবং ২২ নভেম্বর একটি সমীক্ষা করে আদিবাসী কল্যাণ দফতর। সেই সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য বিশ্লেষণ করেই এঁদের উন্নয়নে ১২.৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রাজ্যে শবরের সংখ্যা ৪০ হাজার। বিরোহর সম্প্রদায়ের মানুষ আছেন ৩৬৫জন এবং টোটো আছেন ১৫০০ জন। ওই আদিবাসী মানুষদের জীবনযাপনের নানা সমস্যার কথা উঠে এসেছে এই সমীক্ষা। সেখানে বলা হয়েছে, সরকারি সাহায্যে তাদের বাড়ি ও শৌচাগার করে দেওয়া হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি জীর্ণদশা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা নেই। তাদের অনেকেই মদ ও হাড়িয়ার নেশা মেতে থাকে।  এই আধিবাসী সম্প্রদায়ের আর্থিক উন্নয়নের জন্য কয়েক দফা পরামর্শ দিয়েছেন সমীক্ষকেরা। সেই পরামর্শ মেনেই তাঁদের জীবনযাত্রা মানোন্নয়নের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য।

আরও পড়ুন : কারিগর তৈরির জন্য প্রশিক্ষণভবন বানাবেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা, জমি চান রাজ্যের কাছে

বরাদ্দ অর্থে কী ধরনের কাজ?

এই বরাদ্দ অর্থে শবরদের বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। যাঁদের বাড়ি খারাপ অবস্থায় রয়েছে, তা মেরামত করে দেওয়া হবে। পানীয় জলের সুব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করে তাঁদের আয় ও জীবনযাপনের মাননোন্নয়ন করা হবে। হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং তাঁদের তৈরি সামগ্রী বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎসাহ দিতে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কৃষির উন্নতিতে সেচেরও ব্যবস্থা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই বরাদ্দ অর্থ খরচ করতে হবে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন