tea labourers are in hope
আশায় চা শ্রমিকরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: বন্ধ এবং রুগ্‌ণ চা বাগানগুলির শ্রমিকদের বকেয়া মেটাতে চলেছে রাজ্য। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, এই প্রথম নজিরবিহীন এই ঘটনা ঘটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে।এর জন্য রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে ব্যয় হবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। শুক্রবার এর প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক হয় জলপাইগুড়ির যোগেশচন্দ্র মেমোরিয়াল হলে। সেখানে ডান-বাম সহ সমস্ত শ্রমিক সংগঠন এবং বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে শ্রম দফতর। ছিলেন রাজ্য শ্রম দফতরের অতিরিক্ত সচিব পশুপতি ঘোষ।

গত এক দশকে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুদুয়ার জেলার বহু বাগান বন্ধ হয়েছে। রুগ্‌ণ অবস্থায় ধুঁকে ধুঁকে চলছে বহু বাগান। এই বাগানগুলির শ্রমিকদের মাইনে বকেয়া পড়ে রয়েছে। কোনো বাগানে কয়েক মাসের, তো কোনো বাগানে কয়েক বছরের।

২০০৬ সালে এই বকেয়া পাওনার দাবি নিয়ে নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় কয়েকটি সংগঠন। করা হয় জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ এপ্রিল রায় দেয় আদালত। রায়ে বলা হয়েছে, দু’ মাসের মধ্যে এই বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে।জলপাইগুড়ি এবং আলিপুদুয়ার জেলার ২৮টি বন্ধ এবং রুগ্‌ণ চা বাগান এই তালিকায় রয়েছে। তার মধ্যে ধরণীপুর, মধু, কুমলাই, গেরগেণ্ডা, ডানকানস গোষ্ঠীর বাগানগুলি রয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার শ্রমিকের ৩০ কোটি টাকা বকেয়ার একটা প্রাথমিক হিসেবে পাওয়া গিয়েছে। আদলতের নির্দেশ, এই বকেয়ার অর্ধেক মেটাবে রাজ্য সরকার, বাকি অর্ধেক বাগানমালিক। সেই হিসেবে রাজ্যকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মেটাতে হবে। যে হেতু হাতে সময় মাত্র ২৯ দিন তাই তড়িঘড়ি বাগান কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলিকে সব কিছুর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আজকের বৈঠকে।

meeting between labour dept. and tea workers union
শ্রম দফতর ও চা শ্রমিক সংগঠনগুলির বৈঠক।

শ্রম দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক শ্রমিককে আলাদা ভাবে আবেদন করে জানাতে হবে তাঁর বকেয়ার পরিমাণ। সেই টাকা চেকের মাধ্যমে শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউণ্টে দেওয়া হবে। যে হেতু বন্ধ বাগানগুলির মালিকরা বাগান ছেড়ে চেলে গিয়েছেন বা তাঁদের লিজ বাতিল করা হয়েছে সেই ক্ষেত্রে এই বকেয়ার হিসেব নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই ব্যাপারে শ্রমিক সংগঠনগুলিকেই এগিয়ে আসার আবেদন জানিয়েছে শ্রম দফতর। তাদের হাতেই আবেদনের ফর্ম তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই ফর্ম শ্রমিকদের দিয়ে পূরণ করে জমা দিতে হবে শ্রম দফতরে। তার পরেই পাওনা টাকা আসবে শ্রমিকদের হাতে।

যদিও বাকি ১৫ কোটি টাকা মালিকপক্ষের দেওয়ার কথা। তবে তা নিয়ে সমস্যা রয়েছে। কারণ বন্ধ বাগানগুলির বেশির ভাগ মালিকই বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছেন। অনেকের লিজ বাতিল করা হয়েছে। আর্থিক ভাবে সংকটের মধ্য দিয়ে চলা রুগ্‌ণ বাগানগুলির পক্ষেও এই বকেয়া মেটানো কতটা মেটানো সম্ভব তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই সব জটিলতার কথা মাথায় রেখেই বকেয়ার অর্ধেক রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদাল, যাতে কিছুটা হলেও শ্রমিকরা তাঁদের বকেয়া পায়।নির্দেশমতো রাজ্য শ্রম দফতরও তৈরি।

শ্রমিক সংগঠনগুলির কথায়, আদালতের এই নির্দেশ নজীরবিহীন এবং ঐতিহাসিক। তৃণমূল প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠন ডুয়ার্স তরাই টি প্ল্যান্টেশন ওয়ার্কস ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি স্বপন সরকার আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তাঁরা আগামী কাল থেকেই বাগানগুলিতে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে শুরু করবেন। তবে শ্রমিকরা বকেয়ার বিষয়ে সঠিক তথ্য দিচ্ছেন কিনা সেই ব্যাপারে বাগান কর্তৃপক্ষকেও দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। যে সব মালিক বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছেন তাঁদের নোটিশ পাঠিয়ে তথ্য চাওয়া হবে। কংগ্রেস প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা মণিকুমার ডার্নাল জানিয়েছেন, তাঁরা চান রাজ্য সরকার এ সব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করুক। শ্রম দফতরের অতিরিক্ত সচিব পশুপতি ঘোষ জানিয়েছেন, শ্রম দফতর তৈরি।আদালতের নির্দেশমতো সময়ের মধ্যেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হবে। স্বাভাবিক ভাবেই এই খবরে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন শ্রমিকরা। তবে মালিকপক্ষের থেকে প্রাপ্য বকেয়ার অর্ধেক শ্রমিকরা পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here