Bharati Ghosh and maoist

কলকাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরই যে তিনি পদত্যাগ করেছেন, তা মানতে নারাজ আইপিএস ভারতী ঘোষ ঘনিষ্ট পুলিশ আধিকারিকরা। একটি সূত্রের দাবি, ভারতীদেবী বেশ কয়েক মাস ধরেই অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য সরকারের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন তাঁর কাজের দক্ষতা দেখেই তাঁকে হাতছাড়া করতে চায়নি। বিশেষ করে মাওবাদী দমনে তাঁর দক্ষতা ছিল চোখের পড়ার মতোই। রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরির নেপথ্যেও কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলেছে ওই মাওবাদী-ফ্যাক্টর।

ভারতী কিছুদিন আগেও দাবি করেছেন, বিগত ছ’বছর ধরে তিনি মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় কাজ করেছেন। কিন্তু কাজ সম্পূর্ণ না করে মাঝপথে যাতে চলে না যান, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। ঠিক কেন তিনি অবসরের কথা ভাবছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তরও তিনি নিজে মুখে যতটা তাড়াতাড়ি জানাবেন বলে স্বীকার করেছেন।

তবে পশ্চিম মেদিনীপুরে মাওবাদী দমন সংক্রান্ত্র ব্যাপারে সরকার তাঁর উপর যতটা নির্ভরশীল হয়ে উঠেছিল, তার উল্টো কিছু ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল বলেও শোনা গিয়েছে। বিশেষ করে, যে সব মাওবাদী নেতা-নেত্রীকে ধরে ধরে আত্মসমর্পণ করানোর কাজটি ভারতীদেবী করাতেন, তাঁদের সঙ্গেই তাঁর সমসাময়িক কালে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদান চলছিল বলে ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ফের অডিও বার্তা ভারতী ঘোষের, এ বার নিশানায় রাজ্য সরকার! শুনে নিন কী বললেন তিনি?

পুলিশ মহলে একটা কথা ইদানীং শোনা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার জঙ্গল মহলের বিস্তৃর্ণ এলাকায় ফেল মাওবাদী সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনেই পশ্চিম মেদিনীপুরে তার বড়োসড়ো প্রভাব পড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবে বিজেপি। প্ৰশ্ন উঠছে, কী এমন ঘটল, গত সাত বছরে যে জঙ্গল মহলে ‘শান্তি’ ফিরে এসেছিল, সেখানে আবার নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে? ভারতীদেবীই বা কেন মাওবাদীদের পুনরুত্থানের শরিক হয়ে বিজেপির সুবিধা করে দেবেন? স্থানীয় সূত্রের খবর, বিজেপির এক নেতা ইতিমধ্যেই খোঁজখবর নেওয়ার শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর প্রতিনিধিরা গোপনে এলাকাজুড়ে অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই পরিস্থিতিকে আসত্তে নিয়ে আসতে সচেষ্ট হয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সম্প্রতি জঙ্গল মহলের একাধিক প্রথমসারির আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন মাওবাদী নেতৃত্বকে নবান্নে ডেকে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তাঁর কড়া নির্দেশ-‘পুলিশ ছেড়ে চলে গিয়েছে তেমন কারও সঙ্গে যোগাযোগ করার দরকার নেই। আপনার কাছে যদি কোনো তথ্য থাকে তা হলে পুলিশকে জানান।’

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here