wearing helmets to save themselves from stones

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ‘ঠিক দুক্কুর বেলা, ভূতে মারে ঢেলা’। তবে শুধু দুপুর নয়, দিন-রাত যখন তখন ঢিল এসে পড়ছে। কখনও কারও বাড়ির চালে, কখনও বা পথচলতি কারও মাথায়। কাণ্ডটা যে অশরীরি ভূতের নয়, কোনো মানুষ-ভূতের তা বিলক্ষণ বুঝেছেন জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু কারা করছে বা কেনই বা করছে, তা বুঝে উঠতে না পারাতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই মাথায় বা গায়ে লেগে আঘাতও পেয়েছেন অনেকে।

ঘটনা শুরু হয়েছে দিন সাতেক আগে। কখনও ছোটো পাথর, কখনও আবার বড়ো সাইজের পাটকেল এসে পড়ছে বাড়ির চালে, ছাদে। কখনও গলিপথে চলা মানুষদের ওপরেই তা বর্ষিত হচ্ছে। ছোটোদের খেলার মাঠেও পড়ছে পাথর। সন্ধে হলেই বাড়ছে  ঢিল পড়ার  পরিমাণ। যদিও বেশি রাতে তা আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, যে অনেকেই ঘর থেকে মাথায় হেলমেট পরে বের হচ্ছেন। নিদেনপক্ষে ছাতা।

নিজেরা নজরদারির পাশাপাশি ঘটনা জানানো হয়েছে কোতোয়ালি থানার পুলিশকেও। তারা গত তিন দিন ধরে টহল দিয়েও এর কিনারা করতে পারেনি। বরং শুক্রবার পুলিশের গাড়ির ওপর ঢিল এসে পড়ে। এতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা। যারা পুলিশকেও রেয়াত করছে না ‘তারা’ কারা? উপায়ান্তর না দেখে শুক্রবার রাতে কেউ মাথায় হেলমেট, কেউ গামলা মাথায় দিয়ে, লাঠি হাতে দল বেঁধে তল্লাশিতে বেরিয়ে পড়েন। অনেকটা এলাকা জুড়ে খোঁজ চালিয়েও অবশ্য মেলেনি কিছু। এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির দিকে সন্দেহ হওয়ার সেটিও তল্লাশি করে দেখা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও তেমন  কিছু পাওয়া যায়নি। তবে প্রশ্ন, ওই এলাকায় বেশ কয়েকটি বহুতল রয়েছে। কেউ যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিছু করে তা হলে সেই বহুতলের বাসিন্দাদের চোখে এত দিনেও কিছু ধরা পড়ল না কেন? নাকি দেখেও কোনো ‘অজ্ঞাত’ ভয়ে চুপ করে আছেন কেউ কেউ, বলছেন ভুক্তভোগীরা।

some stones collected from the spot
এই সেই পাটকেল।

শুচিস্মিতা সিনহা নামে এক গৃহবধূ জানিয়েছেন, অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে সন্তানদের স্কুলে বা খেলতে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। কখন আবার ঢিল এসে পড়ে মাথায়, এই ভয়ে। মাস কয়েক আগে নয়াবস্তি থেকে সামান্য দূরে সুভাষ উন্নয়ন পল্লিতে অজানা এক জন্তুর আতঙ্ক থাবা বসিয়েছিল। তার রহস্য ভেদ হয়নি আজও।

গত মাসে ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি সহ আরও দু-একটি এলাকায় এই ‘ঢিল’ আতঙ্ক দেখা দিয়েছিল। যদিও লাগাতার পুলিশি নজরদারির ফলে তা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পেছনে কী উদ্দেশ্য বা কারা রয়েছে সেই সত্য এখনও উদঘাটন হয়নি।

তবে কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার জানিয়েছেন, রাতে ওই এলাকায় পুলিশ পাহারা রাখা হয়েছে। সারা দিন নজরদারিও চলছে। যারাই এর পেছনে থাকুক তাদের খুঁজে বার করার আশ্বাস দিয়েছেন আইসি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here