mamata banerjee tmc

কলকাতা: গত ছ’বছরে বহুবিধ সামাজিক প্রকল্পের রূপায়ণ এবং জনগণের কাছে সেগুলির সুষ্ঠু পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সামগ্রিক চিত্রকেই তুলে ধরতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঢাকে এখনও কাঠি পড়েনি। তবে রাজ্যের শাসক, বিরোধী, সব রাজনৈতিক দলই কম-বেশি আগামী বছরের এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের কাজ শুরু করে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস শাসকদল হওয়ায় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও বিরোধী দলগুলি তাই রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছে।

কলকাতা লাগোয়া দুই ২৪ পরগণায় ইতিমধ্যেই বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বার তাঁর গন্তব্য বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া। আগামী ১১-১৩ ডিসেম্বর, টানা তিন দিনের এই কর্মসূচিতে যেমন রয়েছে প্রশাসনিক কাজের তদারকি তেমনই থাকবে জনসভা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কাল বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা দেবেন মমতা। সেখানে আসানসোলে একটি জনসভায় অংশ নেবেন। পর দিন অর্থাৎ গত পরশু পুরুলিয়ার ঝালদায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। ১৩ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার জনসভা শেষ করে কলকাতা ফিরবেন।

তৃণমূল সুত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে একাধিক সামাজিক প্রকল্পের সুফল পেয়েছিল দল। কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, সাইকেল বিলি, ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান, জল ধরো জল ভরো, সবুজ সাথী সহ একাধিক প্রকল্পের সুবাদে রাজ্যের ৪৫ শতাংশ জনগণের সমর্থন পেয়েছিল তৃণমূল। এ বারও সে ভাবেই ওই প্রকল্পগুলির বিস্তার এবং নতুন কয়েকটি প্রকল্পের ঘোষণা সামনে আসতে চলেছে দলের প্রচারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে জীবনজীবিকা এখন সংকটের সৃষ্টি করেছে। নিত্য দিন নির্বাহ করতে গ্রামের মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিভিন্ন কারণে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে এই প্রাপ্তির রাজনীতি যথাযথ তাৎপর্য বহন করে। আবার কোনো সরকার জনগণের চাহিদা পূরণে সত্যিই মনোযোগী কি না, তা প্রমাণ করতেও এই ধরনের জনহিতকর প্রকল্পগুলি যথেষ্ট কার্যকরী। যে কারণে এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছোতে খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছে না তৃণমূল কর্মীদের। হতে পারে কোথাও কোথাও দলীয় কোন্দল বা অন্যান্য অপ্রীতিকর ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন স্থানীয় স্তরের নেতা-নেত্রীরা, তবুও সামগ্রিক ভাবে এই প্রাপ্তিযোগ মানুষের মতদানে যথেষ্ট ছাপ ফেলবেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here