burdwan station street children

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: ঘরবাড়ি বলতে কিছু নেই। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মই স্থায়ী ঠিকানা। সমাজের সমস্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দেশের যে কোনো স্টেশনেই দেখা মেলে এই রকম কিছু ফুটফুটে অথচ অসহায় মুখের। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের জন্য হাত পাতে যাত্রীদের কাছে। কেউ হয়তো অনাথ, কারও হয়তো পরিবারও রয়েছে। তবে শিক্ষার অধিকার থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। স্কুল কী? ক্লাসরুম, বন্ধু, চকডাস্টার, পড়াপড়া খেলা কী, তারা জানে না। এই সব পথশিশুকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অভিনব উদ্যোগ নিল পূর্ব বর্ধমান জেলা শিক্ষা দফতর।

ওরা স্কুলে যায় না। তাই স্কুলকেই ওদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা দফতর। এই নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে এই দফতর। আধিকারিক ও শিক্ষকশিক্ষিকাদের উদ্যোগে জনা তিরিশেক পথশিশুকে নিয়ে বর্ধমান স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হল। প্রাথমিকের জেলা ইনস্পেক্টর নারায়ণ চন্দ্র পাল, রাজ্য ইনস্পেক্টর শুভাশিস বকশি-সহ ১২ জন সরকারি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা পথশিশুদের জন্য খাবার, বস্ত্র, খাতা পেন নিয়ে হাজির হন।

গল্পের মাধ্যমে ভালোবাসা দিয়ে তাদের পড়াতে বসান। অ-আ-ক-খ, এ-বি-সি-ডি থেকে ড্রয়িংয়ের মাধ্যমে চলে প্রথম দিনের ক্লাস। শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “ওদেরকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন আমরা ওদের কাউন্সেলিং করি। এর পর আপাতত সপ্তাহে একদিন করে করে আমরা ওদের ক্লাস নেব।” তাঁর কথায়, শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার রয়েছে।

শিক্ষকরা নিজের স্কুলের পাঠ শেষ করে ওদের পড়াতে যাবেন। আসতে আসতে ওদের শিক্ষার মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। মিডডে মিলের ব্যবস্থা করা হবে। শুভাশিসবাবু জানান, “যদি ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকান, হাসপাতাল থাকতে পারে তা হলে ভ্রাম্যমাণ স্কুল কেন করা যাবে না। পথশিশুদের অনেকেই পরিবার ও শিক্ষা না পেয়ে নানা ধরনের খারাপ প্রভাবে পড়ে যায়। তাই শিক্ষার মাধ্যমে তাদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। একদিনেই ওদের মধ্যে খুবই আগ্রহ লক্ষ করা গেছে।”

এ দিন অংশগ্রহণকারী শিক্ষক তাপস কুমার পাল বলেন, “কোনো অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ছাড়াই আমরা এই শিক্ষকতা করব। সবাই শিক্ষার আলো পাক, এটাই আমরা চাই।” বর্ধমানের স্টেশন ম্যানেজার স্বপন অধিকারী বলেন, “আমরা ক্লাস নেওয়ার জন্য স্টেশনের ৮ নং প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবস্থা করেছি। শিক্ষকদের সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।” জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here