students' demonstration in jalpaiguri polytechnic

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দিন কয়েক আগেই এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এ বার বিক্ষোভ জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। প্রথম বর্ষের ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শনিবার হঠাৎ করেই ক্লাস বয়কট করে এই সরকারি পলিটেকনিক কলেজের পড়ুয়ারা। কলেজের মূল ফটক অবরোধ করে অবস্থানে বসে। তাদের অভিযোগ, ছাত্রীর শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। সে দিন সিভিল ডিপার্টমেন্টের মৌখিক পরীক্ষা চলছিল। সেই সময় চুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষক জ্যোতির্ময় রায় প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। নিজের অভিযোগে ওই ছাত্রী জানিয়েছে, অন্য ছাত্রছাত্রীরা বের হয়ে যাওয়ার পর ক্লাসরুমের দরজা বন্ধ করে দেন ওই প্রশিক্ষক। তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি করেন। “প্রতি দিন দুপুরে তাঁকে একটু সময় দিতে হবে”, ছাত্রীকে প্রস্তাব দেন ওই প্রশিক্ষক। বিনিময়ে ছাত্রীর মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।

jalpaiguri polytechnic instituteএই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই ছাত্রী বাইরে এসে সমস্ত কথা সহপাঠীদের ও পরিবারকে জানায়। জানানো হয় অধ্যক্ষকেও। বৃহস্পতিবার রাতেই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে ছাত্রী। কিন্তু ওই প্রশিক্ষক পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ওই প্রশিক্ষককে কলেজ থেকে অপসারণের দাবিতে শনিবার আন্দোলনে নামে ছাত্রছাত্রীরা। দিয়ালি সাহা নামে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রশিক্ষক আগেও এই ধরনের কাজ করেছেন।

চলতি সপ্তাহেই একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে আপাতত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই অধ্যাপককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

এ ক্ষেত্রেও দাবি উঠেছে এই প্রশিক্ষকের শাস্তির। যদিও ফোনে ওই প্রশিক্ষক জ্যোতির্ময় রায় অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সে দিন মৌখিক পরীক্ষায় অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি ওই ছাত্রী। এখন তাই তাঁকে বিপাকে ফেলতে মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। যদিও ছাত্রছাত্রীরা বারবার ওই প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনছেন।

তবে বিকেলে অধ্যক্ষ ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। এর পর শনিবার সাময়িক ভাবে অবস্থান তুলে নেয় ছাত্রছাত্রীরা। তবে সোমবার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে ফের আন্দোলন হবে বলে জানিয়েছে প্রথম বর্ষের ছাত্র অলীক চৌধুরী।

এই ভাবে অধ্যাপক বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে  ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির মতো ঘৃণ্য অভিযোগ বারবার ওঠায় আখেরে শিক্ষা ব্যবস্থাই কালিমালিপ্ত হচ্ছে, মত শিক্ষানুরাগী মহলের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here