নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সহপাঠীর মৃত্যুর তদন্তের দাবিতে আন্দোলনে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। কিছু দিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মিতার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রছাত্রীরা আন্দোলনে নামে।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রের নাম শেখ রেজাউল, বয়স ২৫। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ  দ্বিতীয় বর্ষের থার্ড সেমিস্টারের ছাত্র ছিল রেজাউল। এই সঙ্গে বর্ধমান থানার সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজও করতেন তিনি। বাড়ি বর্ধমান থানার চান্ডুল গ্রামে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩ ডিসেম্বর সকালে বর্ধমানের সড়াইটিকর গ্রামের কাছে একটি কবর স্থানের গেটে মাফলারে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় মানুষরা।

পরিবারের তরফে দাদা শেখ আলাউদ্দিন সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, রেজাউলকে খুন করা হয়েছে। আত্মহত্যার যুক্তি মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

burdwan-university

ঘটনার তদন্ত করছে বর্ধমান থানা।

সিভিকে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে সে দু’বছর ধরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে এমএ পড়ছিলেন। পরিবারের মতোই বন্ধুরাও অত সহজে তাঁর মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। তাঁদেরও দাবি, তাঁরা রেজাউলের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে আত্মহত্যার তত্ত্ব মেনে নিতে পারছেন না। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা রেজাউলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ক্লাস রুমে শোক পালনও করা হয়। তদন্তের কতটা এগিয়েছে তা জানতে বর্ধমান থানাতেও যান তাঁরা।

এরপরই মঙ্গলবার তাঁরা বন্ধুর মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং ছাত্র সংসদের ছাত্রছাত্রী একত্রিত হয়ে গোটা ক্যাম্পাসে মিছিল করেন। পোস্টার লিখে ঝোলানো হয় ক্যাম্পাসে। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁরা বন্ধুর মৃত্যুর যথাযথ তদন্ত চান। রেজাউলকে খুন করা হয়েছে।

তাঁরই ক্লাসের সহপাঠী দীপেন মন্ডলের বক্তব্য, ”দেহটি মাটিতে পা দিয়ে ঝুলছিল। এটা কখনও আত্মহত্যা হতে পারে না।”

মৌমিতা কর্মকার বলেন, ”আমরা রেজাউলের মৃত্যুর দ্রুত তদন্ত চাই। বুধবার আমরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। সকল ছাত্রছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here