hindu hostel
হিন্দু হস্টেল। নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা: হস্টেল ফিরে পেতে এ বার শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হতে চলেছেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত পড়ুয়া। তাঁদের একাংশ মনে করছে, আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে গিয়ে কিছু হবে না, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই সমস্যার সমাধান হতে পারে।

এর আগে পড়ুয়াদের হাতে হস্টেল ফিরিয়ে দিতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হস্টেল ফিরিয়ে দিতে ব্যর্থ হন। আবার এ ব্যাপারে সরকারের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া।কিন্তু গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি ছাত্রদের দাবিকেই সমর্থন করছেন।

শিক্ষামন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে বলেন, তিন বছরেও ছাত্ররা হস্টেল ফিরে পেলেন না, তার দায় কার? পূর্ত দফতর না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের? না কি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত সংস্থার?  কেন এত সময় লাগছে ঐতিহ্যবাহী হস্টেলটি নিয়ে, সে ব্যাপারে রিপোর্ট পেশ করেছে পূর্ত দফতর। ওই রিপোর্ট খতিয়ে দেখছেন উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব।

এ দিকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে হস্টেল ফিরে না পেয়ে আন্দোলনের পথে গিয়ে ৩০ তারিখ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখলেন পড়ুয়ারা। তাঁদের যুক্তি, শিক্ষামন্ত্রী নিজে যখন পূর্ত দফতের সঙ্গে সমন্বয় রাখছেন, তখন আশা করা যায় দ্রুত কাজ শেষ হয়ে যাবে। আন্দোলনরত আবাসিক ছাত্র মহম্মদ আনিসুর হক বলেন, আমরা সরকারের উপর আস্থা রাখছি, শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করব। পাশাপাশি প্রকাশ্য ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের দাবিতে আন্দোলনরত পড়ুয়ারা চিঠি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। তাঁরা দাবি করেছেন, ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পূর্ত দফতরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করতে হবে। যদিও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের তরফে কোনো জবাব মেলেনি।

আরও পড়ুন: হাম এবং রুবেলার প্রতিষেধক নিয়ে হলদিবাড়িতে মসজিদ থেকেও প্রচার

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সংস্কারের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় হস্টেল। তার ১১ মাস পর হস্টেল চালু করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এ ভাবে তিন বছর একাধিক বার সময় দিয়েও হস্টেল ফেরত দিতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। তারই প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা।

ইতি মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন, হস্টেলের সংস্কার হচ্ছিল বলে পড়ুয়ারা ধৈর্য ধরে ছিল। কিন্তু তিন বছরেও কাজ সম্পূর্ণ হল না। ছাত্র স্বার্থ আগে দেখতে হবে। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের স্বার্থকে উপেক্ষা করা যায় না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here