১৮ দিনের শিশুর স্পাইনাল কর্ডের সফল অস্ত্রোপচার

0

ফের রাজ্যে বিরলতম অস্ত্রোপচার। এ বার ১৮ দিনের শিশুর স্পাইনাল কর্ডের অস্ত্রোপচার হল কলকাতার অন্যতম বেসরকারি হাসপাতাল আর এন টেগোর হাসপাতালে। ত্রিপুরার বাসিন্দা কিশোর রায়ের পুত্রসন্তান রামকৃষ্ণ রায়। জন্মানোর পর থেকেই রামকৃষ্ণের শরীরে এই স্পাইনাল কার্ডের সমস্যা দেখা যায়। কিশোরবাবু নবজাতককে প্রথমে ত্রিপুরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় কলকাতার আর এন টেগোর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। আর এই হাসপাতালেই তার সফল অস্ত্রোপচার হল।

babyডাঃ কৌশিক শীল বলেন, “শিশুটি জন্মানোর পর থেকেই দেখা যায় তার পিঠের তলার দিকে চামড়া নেই, মাসল্‌ নেই। ফলে তার স্পাইনাল কর্ডটা পিঠের দিকে থেকে বেরিয়ে আসে। তার পর সেটা ফেটে স্পাইনাল ফ্লুইড বেরিয়ে আসছিল। আর এই স্পাইনাল ফ্লুইড লিক করে বাচ্চাটির মেনেঞ্জাইটিস হচ্ছিল। তাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দ্রুত অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এত কমবয়সি শিশুর অস্ত্রোপচারে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে। বাচ্চার ব্লাড বের হয়ে গিয়ে শিশুটি রক্তশুন্য হতে যেতে পারে। সব সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য হাসপাতালের ডাক্তার, বিশেষ করে পেডিয়াট্রিক, নিউরো বিভাগের ডাক্তারদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়। তার পরই এই ডাক্তারদের টিম দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়। শিশুটিকে ডিভি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ক্রিটিক্যাল কেয়ারে রেখে কিছুটা সুস্থ করা হয়। তারপরই অস্ত্রোপচার করা হয়। আর ওই জায়গা থেকে মাসল্‌ নিয়ে স্পাইনাল কর্ডটিকে তার নিজের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই অস্ত্রোপচার করতে ৩ ঘন্টা সময় লাগে। তার পর ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়।”

ডাঃ কৌশিক শীল আরও বলেন, রাজ্যে প্রতি ৫ হাজার শিশু জন্মালে মাত্র ১ জনের এই সমস্যা দেখা যায়। সেই শিশুকে বাঁচানো খুবই কঠিন। কিন্তু এই বাচ্চাটির ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল এই কাজ করেছে। আর এ ধরনের স্পাইনাল কর্ডের সমস্যার ক্ষেত্রে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অস্ত্রোপচার না করলে শিশুটি মারা যেতে পারে। কিন্তু সৌভাগ্যের ব্যাপার, এ ক্ষেত্রে এই শিশুটিকে ১৭ দিন পরেও অস্ত্রোপচার প্রচার করে সুস্থ করা গেল।

শিশুটির বাবা কিশোর রায় বলেন, “ডাক্তারদের ধন্যবাদ জানাই। বাচ্চা জন্মগ্রহণের পর থেকেই আমরা খুবই চিন্তায় ছিলাম। এখান আমার বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ।”

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন