কুলতলিতে বাঘ ধরে রেখে আসা হল ঝড়খালির পুনর্বাসন কেন্দ্রে

0
502

সুমন সাহা:

গত সোমবার রাতে কুলতলির দেউলবাড়ি গ্রামে যে বাঘবাবাজি হানা দিয়েছিল তাকে দু’ দিন পরে খাঁচাবন্দি করে বৃহস্পতিবার রেখে আসা হল ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। বন দফতর সূত্রে খবর, ১০ ফুট লম্বা পূর্ণবয়স্ক বাঘটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। সুস্থ হলে তাকে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

দেউলবাড়ি গ্রামসংলগ্ন হেরোভাঙা ন’ নম্বর জঙ্গলের কাছে চিতুরি নদীর ধারে রাখা হয়েছিল দু’টি খাঁচা। দু’টি খাঁচায় দু’টি ছাগল টোপ হিসেবে রেখে দেওয়া হয়েছিল। সঙ্গে রাখা হয়েছিল মাংস। বন দফতরের এক আধিকারিক জানান, মাংসের গন্ধে কুপোকাত হয়ে ছাগল খাওয়ার লোভে পূর্ণবয়স্ক বাঘটি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে আসতেই খাঁচাবন্দি হয়ে যায়। আবার গ্রামে ঢোকার চেষ্টায় ছিল সে।

বুধবার দুপুর থেকে ওঁত পেতেছিলেন বন দফতরের কর্মীরা। ঠিক রাত ৮টার পরেই খাঁচাবন্দি হয় পূর্ণবয়স্ক বাঘটি। রাতেই স্পিডবোট আর লঞ্চ সহযোগে বাঘটিকে নিয়ে যাওয়া হয় গোসাবার ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার সকালে ঝড়খালি যান জেলা বন দফতরের আধিকারিক তৃপ্তি সাহা, রায়দিঘি বন দফতরের রেঞ্জার অশোক নস্কর, মাতলা রেঞ্জ অফিসার নীলকমল গুহ-সহ অন্য কর্মীরা।

দেউলবাড়ি গ্রামে বাঘের আক্রমণে নিহত গরু।

উল্লেখ্য, দেউলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তরুণ মণ্ডলের গোয়ালঘরে সোমবার রাত ৩টের সময় ঢুকে একটি গরুকে মেরে চলে গিয়েছিল এই বাঘ। বাঘ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে ১০ ফুট নেট কেটে নদী সাঁতরে গ্রামে চলে আসে। তখন থেকেই দেউলবাড়ি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল।

এই জাল কেটে নদী পেরিয়ে গ্রামে ঢুকেছিল বাঘ।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুলতলির বিট অফিসার বিবেকানন্দ বেরা, রায়দিঘির রেঞ্জ অফিসার অশোক নস্কর-সহ বন দফতরের কর্মীরা। গরু মারা যাওয়ায় ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের দাবিতে বনকর্মীদের আটকে রেখে গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ দেখান। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি যথাযথ ভাবে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভ তুলে নেন গ্রামবাসীরা। ঘটনা প্রসঙ্গে জানা যায়, দেউলবাড়ির তরুণ মণ্ডলের বাড়ির লাগোয়া গোয়ালঘরে গর্ভবতী গরুর ঘাড়ে কামড় দিয়ে তাকে মেরে ফেলে বাঘটি। আওয়াজ পেয়ে মণ্ডল পরিবারের লোকজন ও গ্রামবাসীরা লাঠি, নৌকার বৈঠা ইত্যাদি নিয়ে ছুটে এলে বাঘ গরুকে ফেলে রেখে নদী সাঁতরে জঙ্গলে ঢুকে যায়। এই ঘটনায় দেউলবাড়ি গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সন্ধের পর ঘরের বাইরে বেরোনো বন্ধ হয়ে যায়। বন দফতরে খবর দেওয়া হয়। কুলতলির বিট অফিসার বিবেকানন্দ বেরার নেতৃত্বে স্পিডবোট আর লঞ্চ সহযোগে নজরদারি বাড়ানো হয় ওই এলাকায়। সন্ধের পর পটকা ফাটানোর ব্যবস্থা করা হয়।

শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল বাঘবাবাজি।

ছবি: প্রতিবেদক

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here