চরম সংকটে সুন্দরবনের নৌকাশিল্প, ধুঁকছে জীবিকা

0
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়

সুন্দরবন: নদীতে মাছ কমছে। কমে যাচ্ছে জল। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার বৃহত্তর একটি অংশের মানুষের জীবিকা ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে!

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি ১ ও ২, স্বরূপনগর, ক্যানিং ১ ও ২, গোসাবা, বাসন্তী ব্লকগুলির মধ্যে দিয়ে বয়ে চলেছে কালিন্দী, ইছামতী, গৌড়েশ্বর, রায়মঙ্গল, কলাগাছি, বিদ্যাধরী, মাতলার মতো নোনা নদী এবং তাদের শাখাপ্রশাখা। সুন্দরবনের এই অঞ্চলের প্রধান জীবিকা হল নদী থেকে মৎস্যশিকার। নদীগুলোতে আগে মিলত ইলিশ, পমফ্রেট, ভেটকি, পারশের মতো দামি মাছ। এই সব এলাকার হাজার হাজার মৎস্যজীবী সাধারণ নৌকা দিয়ে জালের সাহায্যে মৎস্যশিকার করে ক্যানিং, ধামাখালি, হাসনাবাদ এবং হিঙ্গলগঞ্জের পাইকারি বাজারে বিক্রি করে লাভের মুখ দেখতেন। এর সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে উঠেছিল হাসনাবাদের নৌকাশিল্প। জলদূষণ এবং নানান প্রাকৃতিক কারণে এই সব নদীতে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না। মৎস্যজীবীরা আজ চরম সংকটে।

আবার ভাটার সময় বহু নদীতেই জল থাকে না বলে নৌকা চলে না। এই ভাবে দিন দিন নৌকার চাহিদাও কমছে বহু গুণ। চরম সংকটের মুখে নৌকাশিল্প। এর পাশাপাশি কাঠের অমিল, রাসায়নিক আঠার অমিল এবং নৌকা তৈরির খরচ বেড়ে যাওয়া, ইত্যাদি কারণে চরম সংকটে এই শিল্প।

হাসনাবাদ ব্লকের ভবানীপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের নিরাপদ গায়েন, অমূল্য পাল-সহ কয়েক জন নৌকাশিল্পী বলেন, আগে সেগুন কাঠ দিয়ে শক্ত পোক্ত নৌকা তৈরি হত। কাঠের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে নৌকা তৈরি হচ্ছে বাবলা কাঠে। প্রথমে বাবলা কাঠ পুড়িয়ে নৌকার আকৃতিতে আনতে হয়। এর পর বাঁধানো কাঠের গুঁড়ির সঙ্গে কাঠগুলিকে বল্টুর মতো মোটা পেরেক মেরে মজবুত করতে হয়। ১৩ হাতের নৌকা তৈরিতে সময় লাগে ৬-৭ দিন। ২৬ হাতের নৌকা, মাছ রাখার জায়গা সমেত সময় লাগে এক মাস। দাম প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় মৎস্যজীবিরা এখন অন্য কাজের সন্ধানে চলে যাচ্ছে। ফলে মার খাচ্ছে সুন্দরবনের নৌকাশিল্প।

আগে হাসনাবাদের ভেরিয়া, বরুণহাট, রামেশ্বরপুর, পাটলিখানপুর, ভবানীপুর ১ ও ২, হিঙ্গলগঞ্জের সাহেবখালি, সান্তারবিল, গোবিন্দকাঠি, কালীতলা, বাসন্তীর চড়াবিদ্যা, আমঝড়া, চুনোখালি, ফুল মালঞ্চ, ক্যানিংয়ের আঠারো বাকি, মঠের দিঘি, মাতলা ১ ও ২, হাঁট পুকুরিয়া, বাঁশরা, ইটখোলা, গোসাবার বালি ১ ও ২, গোসাবা, সাতজেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর হারে নৌকা লাগত মাছ ধরার জন্য আর এখন এই সব এলাকায় নৌকা লাগে না বললেই চলে। বিশেষত মাছের অভাবে আজ সংকটে সুন্দরবনের নৌকাশিল্প।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.