Suniti-Devi
ছবি: প্রতিবেদক
Samir mahat
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৯০ বছরের সুনীতিদেবী প্রয়াত হলেন।  তাঁর বাবা গৌর হরি সিংহ (মাহাত) ছিলেন সে সময়কার ম্যাট্রিকপাশ। প্রদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে চিরকাল যুক্ত ছিলেন। কংগ্রেসের বিশিষ্ট বিধায়ক মহেন্দ্র মাহাত, সুরেন্দ্র মাহাতর সঙ্গে ছিল বাবার ঘনিষ্ট যোগাযোগ। সে সময় বাল্যবিবাহ চালু ছিল। পাঁচ বছর বয়সেই নাদনগেড়িয়া গ্রামের বিশ্বনাথ মাহাতর সঙ্গে সুনীতাদেবীর বিয়ে হয়। ছোট বেলা থেকেই বাবার রাজনৈতিক আদর্শে জড়িয়ে পড়েন তিনি৷ তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে ২৬ জুলাই রাতে ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কেন তাঁকে সবাই ‘মিছিল বুড়ি’ বলত?

ঝাড়গ্রাম শহরে যে কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক মিছিল সংগঠিত হলেই তিনি থাকতেন অগ্রভাগে। ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন, সারাদিন আদালত চত্ত্বর, মহকুমা চত্ত্ব ঘুরে রাতে বাড়ি ফিরতেন। বাড়ির পাশের ক্লাবের ছেলেরা ১৫ আগস্ট এলেই তাঁকে দিয়ে পতাকা উত্তোলন করাতেন। ধর্মপরায়ণও কম ছিলেন না। ঝাড়গ্রামের গৌড়ীয় মঠের সঙ্গে নিত্য যোগাযোগ তাঁর ছিল। বহু বছর আগে পুরীতে জগন্নাথের দর্শনে গিয়ে তাঁর বাম হাতটি ভেঙে যায়।

পড়তে পারেন: এক নজরে দেখে নিন কোন কোন পণ্যে জিএসটির হার শূন্য হল

এত সবের মাঝেও সুনীতিদেবী তাঁর তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করেন। তিন মেয়েই স্কুলের শিক্ষিকা। ছোট ছেলে পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার ও দলিল লেখক, মেজো ছেলেও দলিল লেখক। বেশ কয়েক মাস তিনি শয্যাগত ছিলেন। এ দিন বাড়িতে এসে শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন জানান বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা নিখিল মাইতি ও বিশিষ্ট জনেরা। নিখিলবাবু  বলেন, “এনার বাবা ছিলেন বিশিষ্ট মানুষ। বহু বছর আগেই তাঁরা ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা হন। সুনীতিদেবী ছিলেন আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক। হাসি মুখের মিশুকে ভাব ছিল সবার সঙ্গে। আমরা সেই অভিভাবককে হারালাম।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here