tmc

ওয়েবডেস্ক: গত লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রে তারকা প্রার্থী দিয়েও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীকে হারাতে পারেনি তৃণমূল। সে বার তৃণমূলের গায়ক প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ওই কেন্দ্রে অধীরবাবুর কাছে হেরেছিলেন ৩,৫৬,৫৬৭ ভোটে। স্বাভাবিক ভাবে আগামী লোকসভায় বহরমপুরকে পাখির চোখ করেই এগোচ্ছে তৃণমূল। বিশেষ করে দলের মুর্শিদাবাদ জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী যে এই আসনটিকে চ্যালেঞ্চ হিসাবে ধরে নিয়েছেন, সে কথাও ব্যক্ত করলেন দলীয় সভায়।

বহরমপুরে একটি দলীয় সভায় শুভেন্দুবাবু বলেন, “আমি জানি না দল আমাকে কত দিন এই জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রাখবে। তবুও আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই জেলাকে তৃণমূলের দখলে নিয়ে আসার লড়াই চালিয়ে যাব। বিশেষ করে আগামী লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরীকে না হারানো পর্যন্ত আমার লড়াই চলবে”।

জেলা পর্যবেক্ষকের এমন মন্তব্যের জেরে যথেষ্ট উজ্জ্বীবিত দলীয় কর্মীরাও। বছর ঘুরলেই বহরমপুর পুরসভার নির্বাচন। ২৮ সদস্যের বহরমপুর পুরসভায় গত ২০১৫-র নির্বাচনে কংগ্রেস পায় ২৬টি আসন। তৃণমূল ও নির্দল প্রার্থী জেতে একটি করে আসনে। অধীরবাবুর গড় হিসাবে পরিচিত এই এলাকায় তৃণমূলের এমন শোচনীয় ফলে মোটেই অবাক হননি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কিন্তু বছর ঘুরতেই কংগ্রেস থেকে পুরপ্রধান-সহ ১৭ জন কাউন্সিলার যোগ দেন তৃণমূলে। স্বাভাবিক ভাবেই ১৮ জন কাউন্সিলার নিয়ে পুরসভার নিয়ন্ত্রক এখন তৃণমূলই। কিন্তু বাদ সাধছে বহরমপুর লোকসভা। যেখানে রীতিমতো অধীরবাবুর একাধিপত্য কায়েম রয়েছে কয়েক দশক ধরে।

যদিও সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফলে হিসাব কিছুটা উল্টে গিয়েছে। এই জেলায় তৃণমূল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেলা পরিষদ দখল করেছিল। এমনকী গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সমিতির ফলাফলেও তৃণমূলের পাল্লা যথেষ্ট ভারী। যে কারণে, শুভেন্দুবাবুর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুৎ হওয়ার কোনো কারণ দেখা যাচ্ছে না। অন্য দিকে বেশ নড়বড়ে ঠকছে কংগ্রেসের ঘর। কংগ্রেস হাইকমান্ড আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রদেশের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আগাম ঘোষণা করলেও অধীরবাবুর ‘গতিবিধি’ নিয়ে ধন্ধে পড়েছেন খোদ কংগ্রেস কর্মীরাই!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here