ঘাটতিকে ৩০ শতাংশের নীচে নামিয়ে দক্ষিণবঙ্গে নিষ্ক্রিয় হল বর্ষা, আবার ভারী বর্ষণ কবে?

0
বর্ষা অবশেষে সক্রিয় হওয়ায় জোরকদমে শুরু ধান রোয়ার কাজ। পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে।

ওয়েবডেস্ক: বুধবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে কার্যত ‘সুপার’ সক্রিয় ছিল বর্ষা। তার জেরে এক ধাক্কায় ঘাটতি নেমে এসেছে তিরিশ শতাংশের নীচে। তবে আগামী কিছু দিনের জন্য মৌসুমী বায়ু কিছুটা নিষ্ক্রিয় হওয়ায় সেই ঘাটতি আবার হয়তো কিছুটা বাড়তে পারে। যদিও সপ্তাহের শেষে ফের একবার ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে।

শুরুটা হয়েছিল বুধবার রাত থেকে। ওই দিন কলকাতার কিছু অংশে চরম ভারী বৃষ্টি হয়। শহরের দক্ষিণাংশে একশো মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছিল। জোর বৃষ্টি হয় পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং নদিয়াতেও। বৃহস্পতিবার সারা দিন সে ভাবে বৃষ্টি না হলেও, রোদের দেখা মেলেনি। তার পর শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে কলকাতায়।

অল্প সময়ে এমন তীব্র বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গ অনেক দিন দেখেনি। গত বছর আগস্টের এক দিন বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রামে সাড়ে তিনশো মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার ব্যপ্তি বেশি ছিল না। কিন্তু এ বারের বৃষ্টির ব্যপ্তি বেশ অনেকটাই। শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ১৯২ মিলিমিটার। ২৪ ঘণ্টায় এই পরিমাণ বৃষ্টি কলকাতায় শেষ কবে হয়েছে, মনে করা যায় না। একই সময়ে ডায়মন্ড হারবারে বৃষ্টি হয়েছে ২০১ মিলিমিটার। এ ছাড়া দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় দেড়শো মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। যদিও শনিবার রাতের পর পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে বৃষ্টি কিছুটা জোর পেয়েছিল, কিন্তু তীব্রতা অনুযায়ী উপকূলবর্তী অঞ্চলের কাছে কিছুই না।

আরও পড়ুন বেপরোয়া, অবিবেচক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন,’ পাকিস্তানকে তীব্র ধমক আফগানিস্তানের

গত কয়েক দিনের এই টানা বৃষ্টির ফলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি এখন নেমে এসেছে মাত্র ২৮ শতাংশে। আগস্ট মাস যখন শুরু হয় তখন এই ঘাটতি দাঁড়িয়ে ছিল ৪৯ শতাংশে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তা পৌছে গিয়েছিল ৫৫ শতাংশে। এ বার আসা যাক জেলার হিসেবে। এই জোর বৃষ্টির ফলে, দক্ষিণবঙ্গের প্রথম জেলা হিসেবে ‘স্বাভাবিক’-এর ঘরে ঢুকে গিয়েছে পুরুলিয়া। সেখানে বর্ষা এখন মাত্র ১৬ শতাংশ ঘাটতিতে রয়েছে। উল্লেখ্য, স্বাভাবিকের ৮১ থেকে ১১৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃষ্টি হলে তা ‘স্বাভাবিক’ হিসেবেই বিবেচিত হয়।

যে যে জেলায় ঘাটতি ৩০-এর নীচে নেমে এসেছে এবং মনে করা হচ্ছে এ মাসের শেষেই ‘স্বাভাবিক’-এর ঘরে ঢুকে যাবে, সেই জেলাগুলি হল, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম (২১ শতাংশ), দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং কলকাতা (২৩ শতাংশ), উত্তর ২৪ পরগণা এবং নদিয়া (২৫ শতাংশ) ও পূর্ব মেদিনীপুর (২৬ শতাংশ)।

অন্য দিকে হাওড়া (৩১ শতাংশ), বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান এবং হুগলি (৩২ শতাংশ), বীরভূম (৪০ শতাংশ) এবং মুর্শিদাবাদকে (৪২ শতাংশ) ‘স্বাভাবিক’-এর ঘরে আসার জন্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। যদিও বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদের ক্ষেত্রে ‘স্বাভাবিক’-এ পৌঁছোনোটা এই মরশুমে নাও হতে পারে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গই নয়, গত কয়েক দিনে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে ঝাড়খণ্ডে। তার জেরে ডিভিসির জলাধারগুলিতে জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। ফলে দামোদর, বরাকরে জলও এখন আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। দক্ষিণবঙ্গের চাষের জমিতেও এখন জল ভরেছে। ফলে প্রায় শেষ মুহূর্তে শুরু হয়েছে ধান রোয়ার কাজ। চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।

আরও পড়ুন গত এক মাসে রাজ্যের এই জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের

কিন্তু যে ঘূর্ণাবর্ত এবং নিম্নচাপের প্রভাবে এই তীব্র বৃষ্টি হল দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে, সে ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। ফলে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত নিষ্ক্রিয় হচ্ছে বর্ষা। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমা জানাচ্ছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত তাও কিছুটা বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু বুধবার থেকে তা আরও কমে যেতে পারে। ফলে আগামী তিন চার দিন সে ভাবে বৃষ্টি হবে না দক্ষিণবঙ্গে। বাড়বে পারদ। যদিও উচ্চগামী পারদকে কাজে লাগিয়ে কোথাও কোথাও বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে অল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা এক্কেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

তবে আবার এক টানা ভারী বৃষ্টি ফিরতে পারে এই সপ্তাহের শেষে। এমনই জানাচ্ছে ওয়েদার আল্টিমা। সংস্থার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, “এই সপ্তাহের শেষে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং ঝাড়খণ্ডে দু’টি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। এর জেরে আবার বাড়তে পারে বৃষ্টি।” তবে ঠিক কতটা পরিমাণে কোথায় বৃষ্টি হবে, ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ঠিক কতটা, এই ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা বৃহস্পতিবারের আগে করা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। তবে সপ্তাহের শেষে বৃষ্টির পরিমাণ যে বৃদ্ধি পাবে, সেই ব্যাপারে অনেকটাই নিশ্চিত রবীন্দ্রবাবু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here