tarpan at babughat

ওয়েব ডেস্ক: বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কলকাতায় গঙ্গার ঘাটে ঘটে চলছে তর্পণ। ভোরের দিকে আকাশ ছিল মেঘলা। একটু পরে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি নামে। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বাড়তে থাকে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে গঙ্গার ঘাটে ভিড়ও। আর আজ মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়ে গেল দুর্গাপূজা প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্ব। আজ মঙ্গলবার পিতৃপক্ষের শেষ দিন। রাত পোহালেই প্রতিপদ। শুরু হয়ে যাবে দেবীপক্ষ।

‘বাজল তোমার আলোর বেণু, মাতল রে ভুবন’- আকাশবাণীর প্রভাতী অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বছরের দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল বলা যায়।

আরও পড়ুন: আশ্বিনের শারদপ্রাতে আলোকমঞ্জীর বেজে উঠলেই মনে পড়ে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রকে

পুজোমণ্ডপের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে জোর কদমে। শিল্পীর ঘরে প্রতিমার গায়ে পড়ছে শেষ তুলির আঁচড়। দু’-এক দিনের মধ্যেই যে মা দুর্গাকে শিল্পীর ঘর ছেড়ে মণ্ডপের পথে রওনা দিতে হবে। আলোকশিল্পীদের ব্যস্ততাও তুঙ্গে। পুজোর আদি বাদ্য নিয়ে বাংলার ঢাকিরা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে পাড়ি দেওয়া শুরু করবেন রাজধানী কলকাতার পথে।

আরও পড়ুন: মুসলমান বাদকদের নৈপুণ্যেই জমে উঠেছিল মহিষাসুরমর্দিনী

আজ পূর্বপুরুষদের স্মরণ করার দিন। ভোর থেকেই কলকাতায় গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে ভিড় উপচে পড়তে শুরু করেছে। কয়েক দিনের মাত্রাছাড়া গরমের পর রবিবার থেকে ফের বৃষ্টি শুরু হয়। এ দিনও ভোর থেকেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি চলে। সেই বৃষ্টি ক্রমশ বাড়তে থাকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। তবে তাতে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণে ভাটা পড়েনি। কেউ এক কোমর জলে দাঁড়িয়ে, কেউ বা এক বুক জলে দাঁড়িয়ে পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে প্রয়াত পিতামাতা ও ঊর্ধ্বতন পুরুষদের উদ্দেশে অঞ্জলি দেন। কেউ পুরুতমশাইয়ের সাহায্যে কেউ বা স্ব-উদ্যোগে তর্পণ সারেন। গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে ব্যাপক পুলিশি বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাণীকুমার ও মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’

tarpan at dhakuria pond
ঢাকুরিয়ার পুকুরে তর্পণ।

যাঁরা গঙ্গার ঘাটে যেতে পারেননি তাঁরা কাছাকাছি জলাশয়ে বা বাড়িতেই তর্পণ সারেন।

আজ মহালয়া। অনেক বনেদি বাড়ির পুজোতেই প্রতিমার চক্ষুদান পর্ব হচ্ছে। ওই সব বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার কৃষ্ণানবমী তিথিতে মা দুর্গার বোধন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুজোর মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে।

ছবি রাজীব বসু

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here