Samir mahat
সমীর মাহাত

বর্ষার মরশুমে ইলিশের স্বাদের সঙ্গে টেক্কা দিতে জঙ্গল মহলের বাজারে আসছে পুটকা ছাতু। বাজারে ভালো ইলিশের দিকে যেমন চেয়ে থাকেন অনেকেই, তেমনি সুস্বাদু পুটকা ছাতুর দিকেও নজর থাকে অনেকের, কবে মিলবে বাজারে!

দেখা গিয়েছে, ইলিশের থেকেও জঙ্গল মহলে কদর বেশি এই পুটকা ছাতুর । জঙ্গলবাসীরা জানিয়েছেন, সামনের সপ্তাহেই বাজারে তা মিলবে। প্রতিবছরই সবজি বাজারের একটা অংশ দখল নেয় বর্ষা মরশুমের জঙ্গলের এই ছাতু। পাশাপাশি, বছরের একটা বাড়তি রোজগারের উৎস হওয়ায়, জঙ্গলবাসীরা কেউ অবহেলা করতে চায় না। তবে এলাকার কিষান মান্ডিগুলি এখনও ঠিকঠাক সচল না হওয়ায় মুনাফাকারী ব্যবসায়ীরাই এই পণ্য কেনাবেচায় অধিক ফায়দা তোলেন। ঝাড়গ্রাম এলাকার এই ছাতু চলে যায় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায়। দাম যাইহোক দু-তিন দিনের মধ্যে এই ছাতু বিক্রি করতে না পারলে তা পাকা বা বুড়ো হয়ে যায়। ঝাড়খণ্ডে এই পাকা পুটকার চাহিদা প্রচুর।

“পুটকা” অর্থে ছোট। কেনার সময় অনেকেই তা কুড়কুড়ি ছাতুও বলে থাকেন। ঠিকঠাক বর্ষা নামলে, জ্যৈষ্ঠের শেষ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত জঙ্গলে এই ছাতু পাওয়া যায়। কৃত্রিম উপায়ে অন্যান্য প্রজাতির মরশুমি ছাতুর চাষ আবিষ্কৃত হলেও এই পুটকার বিকল্প কিছু এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি। আমদানির শুরুর দিকে কিলো প্রতি দাম থাকে ১২০-১৫০ টাকা । আমদানি অধিক হলে তা কমে দাঁড়ায় ৬০-৮০ টাকায়। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের রামরামা, গোবিন্দপুর, শিরশি,ভাওদা, কলাবনি, নয়াগ্রামের তপোবন, লালগড়ের লক্ষ্মণপুর, জামবনির চিল্কিগড়-সহ বেশির ভাগ জঙ্গলেই এই ছাতু পাওয়া যায়। বছরে এই সময়ই তা মেলে।

Bali Chhatu
বালি ছাতু, খুব কম পাওয়া যায়।

জঙ্গল মহলের বাসিন্দাদের মতে, পদ্মার ইলিশ যেমন বাঙালির “অভিজাত” খাদ্য, জঙ্গলবাসীদের কাছে পুটকা ছাতুও তাই। তবে গ্রীষ্মকালে জঙ্গলগুলিতে আগুন ধরিয়ে দিলে এই ছাতুর রেণু পুড়ে নষ্ট হয়। কুড়ানিরা জানাচ্ছেন,আগে মাথা পিছু ১৫-২০ কেজি ছাতু কুড়োতেন। এখন সারাদিনে ৮-৯ কেজির বেশি সংগ্রহ করা মুশকিল। কুড়ানির সংখ্যাও প্রচুর বেড়েছে। মুনাফাকারীরা জঙ্গল লাগোয়া রেল স্টেশনে তাঁবু খাটিয়ে তা ক্রয় করেন। জঙ্গলের মঢাল, কাড়ানি, টিলা, বালি, পাতড়া- এই সব ছাতু পাওয়া গেলেও এই ছাতুই সবচেয়ে সুস্বাদু, চাহিদার ও লাভজনক বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

মানব বিজ্ঞানী তথা নৃতত্ত্ববিদ ড. পশুপতিপ্রসাদ মাহাতর মতে, “প্রাচীন কালে ছাতুই ছিল জঙ্গলবাসীদের প্রধান আহার। কেবল নুনটুকু জুটলেই তা পুড়িয়ে, সেদ্ধ করে খাওয়া যেত। অনাহারের সময় এই ছাতুই জঙ্গলবাসীদের মৃত্যু ঠেকিয়েছিল”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here