কলকাতা: সোনারপুরে ট্যাক্সিচালক খুনের কিনারা করল পুলিশ। গ্রেফতার হলেন ট্যাক্সিচালকের স্ত্রী মধুমিতা এবং তাঁর প্রেমিক চন্দন মণ্ডল।

গত ৯ এপ্রিল খুন হন সমীরবাবু। মৃতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওইদিন রাত ১১টা নাগাদ স্ত্রীর সঙ্গে বসে রাতের খাওয়া সারছিলেন সমীরবাবু। ঘরে ছিলেন তাঁর মা ও ছোটো ছেলে। সদর দরজা খোলাই ছিল। ওই সময় কেউ বা কারা বাইরে থেকে সমীরবাবুকে গুলি করে পালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সমীরবাবুকে পিয়ারলেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে মধুমিতা এবং ট্যাক্সিচালক সমীর মিস্ত্রির মধ্যে ডিভোর্সের মামলা চলছিল বারুইপুর কোর্টে। সমীর শারীরিক ভাবে অক্ষম ছিল। সেই কারণে চন্দনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল মধুমিতার।

সোনারপুর ষ্টেশনেই চন্দন এবং মধুমিতার পরিচয় হয়। ষ্টেশনে নিয়মিত যাতায়াত ছিল মধুমিতার। ক্রমে আলাপ আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এবং শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের মধ্যে শতাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে বলে দুজনেই স্বীকার করেছে।চন্দনের বাড়ি সোনারপুরের ক্ষুদিরাম পল্লির বাগুইপাড়াতে। জানা গিয়েছে এই সম্পর্কের কথা জানত সমীরও, সেই জন্য মধুমিতাকে মারধর করত মাঝেমধ্যে। অন্যদিকে সমীরের থেকে ডিভোর্স নেওয়ার জন্য মধুমিতাকে চন্দন চাপ দিত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে কাজ করত মধুমিতা। চন্দনের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীরও ঝামেলা চলছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

সমীরকে মারার জন্য চন্দন নিজেই গুলি চালায় বলে স্বীকার করেছে। মধুমিতা ঘটনার দিন পরিকল্পনা করে দরজা খুলে রেখেছিল। ছেলে দরজা বন্ধ করে দিলেও মা তাকে খুলে রাখতে বলে, দাবি পুলিশের। যদিও খুনের অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here