নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: আরও ব্যাকফুটে ছাত্রদের আন্দোলন। কারণ এ বার পালটা আন্দোলন শুরু করলেন জলপাইগুড়ি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যাপক এবং অশিক্ষক কর্মীরা।

শনিবার নিয়ে আজ ১৬ দিন ধরে অবস্থান-অনশন করে কলেজ অচল করে রেখেছে ছাত্ররা। অধ্যাপক দীপক কুমার কোলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে চলছে আন্দোলন। ক্লাস, দফতর সব তালাবন্ধ থাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি শিকেয় উঠেছে অন্যান্য অফিশিয়াল কাজকর্মও। প্রতি দিন কলেজে এসে ফিরে যাচ্ছেন অধ্যাপক, কর্মীরা।

শনিবারও তাঁরা কলেজে এসে অচলাবস্থা দেখেন। তার পরই তাঁরা অবস্থানে বসার সিদ্ধান্ত নেন। এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, এই অচলাবস্থার ফলে পড়াশোনার যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি অফিশিয়াল কাজকর্মও শিকেয় উঠেছে। তা ছাড়া অর্থবর্ষের শেষ মাস হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়েতে চলেছে কলেজ।

sit in demonstration of the teachers and non-teaching of jgec
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পালটা অবস্থান।

অধ্যাপক, কর্মীদের আজকের এই পালটা আন্দোলনের সিদ্ধান্তে কিছুটা বিপাকে পড়েছে আন্দোলনরত ছাত্ররা। এর আগেই তাদের বিরুদ্ধে প্রথম বর্ষের ছাত্রদের র‍্যাগিং-এর অভিযোগ উঠেছিল। সেই র‍্যাগিং-এর ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এই আন্দোলন করছে কিছু ছাত্র, অভিযোগ উঠেছিল এমনটাই। থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে র‍্যাগিং-এর অভিযোগের পাশাপাশি হস্টেল ভাঙচুরের অভিযোগ করেছিল কলেজ কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটেই চলে গিয়েছিল এই আন্দোলন। যদিও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে ছাত্ররা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু আজ অধ্যাপকরা পালটা অবস্থান-আন্দোলন শুরু করায় আরও বিপাকে পড়ে ছাত্ররা। শুধু অধ্যাপকরাই নন, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কলেজের সমস্ত স্তরের কর্মীরাও। প্রত্যেকের একটাই দাবি, কলেজ সচল হোক। তবে ছাত্ররা এই পালটা আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি।

এ দিকে রবিবার জলপাইগুড়িতে আসার কথা একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির। এর আগে জেলা প্রশাসনের একটি বৈঠকে আন্দোলনরত ছাত্রদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাদের দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে উচ্চ শিক্ষা দফতর। দফতরের কারিগরি বিভাগের অধিকর্তা অমলেন্দু বসুর নেতৃত্বে তৈরি ওই কমিটি আগামী কাল আসতে পারে। অধ্যাপক দীপক কুমার কোলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সমস্ত বিষয়টাই কমিটি খতিয়ে দেখবে। প্রত্যেক বর্ষের ছাত্র-প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলবেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তাঁরা।

যদিও শনিবার আন্দোলনরত ছাত্রদের মধ্য থেকে জিমি আক্কাস নামে চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্র জানিয়েছে, এই তদন্ত কমিটি আসার ব্যাপারে তাদের লিখিত ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে লিখিত না পেলে তারা তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলবে কি না তা-ও স্পষ্ট করেনি ছাত্ররা। যদিও কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ অমিতাভ রায় জানিয়েছেন, “আশা করি এ বার কলেজ স্বাভাবিক হবে।” এই আশাতেই রয়েছেন কলেজের অধ্যাপক, কর্মী এবং আন্দোলনের বাইরে থাকা বহু ছাত্রও।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন