indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: দূরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত সহপাঠী। কিন্তু তার বাবার ব্যয়বহুল চিকিৎসা করার ক্ষমতা নেই। খবরটা পাওয়ার পর বাড়িতে বসে থাকতে পারেনি বাঁকুড়ার তালডাংরার সচ্চিদানন্দ বিদ্যাপীঠের ছাত্রছাত্রীরা। বন্ধুর চিকিৎসায় আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়ে পথে নামল তারা।

বিবড়দা সচ্চিদানন্দ বিদ্যাপীঠের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত সুমিত যোগী বর্তমানে বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থ এই ছাত্রের বাবা দেবনাথ যোগী সেলাইয়ের দোকানে কাজ করে সামান্য রোজগার করেন। এক দিকে দুই মেয়ের পড়াশোনা আর দৈনন্দিন সংসার খরচ, অন্য দিকে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা করিয়ে কী ভাবে ছেলেকে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনবেন ভেবে পাচ্ছেন না তিনি।

তাই সোমবার বিবড়দা সচ্চিদানন্দ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক সলিল চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাদের বন্ধুর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন নিয়ে পথে নামল। এলাকার সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে তাদের আবেদন, “ফুটফুটে ওই ছোট্ট কুঁড়িটিকে অকালে ঝরে যেতে দেবেন না। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে সে যেন আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারে।” এ দিন পথচলতি সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী থেকে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ওই ছাত্রের চিকিৎসার খরচে সাহায্য করতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসেন। সংগৃহীত অর্থ সুমিতের বাবা দেবনাথ যোগীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন গরম থেকে সাময়িক রেহাই হয়তো মঙ্গলবার, এপ্রিলের শুরুতে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা!

সুমিতের সহপাঠী দেবরাজ ঘোষ বলে, “সুমিত আমার খুব ভালো বন্ধু। এখন ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। আমরা চাইছি সকলের সহযোগিতায় সুমিত দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আমাদের স্কুলে ফিরে আসুক।” প্রধান শিক্ষক সলিল চক্রবর্তী বলেন, তাঁদের ছাত্র সুমিতের বাবার ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। স্কুলের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সাহায্য করা হবে। পাশাপাশি এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবার মিলিত সাহায্যেই সুমিত দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী। একই কথা বলেন স্থানীয় বাসিন্দা শিবশঙ্কর কালিন্দীও। তিনি বলেন, “দুঃস্থ পরিবারের এই ছাত্রের পাশে আমাদের সবার থাকা উচিত, এই আবেদন আমরা সকলের কাছে রেখেছি।”

অসুস্থ ওই ছাত্রের বাবা দেবনাথ যোগী ভেবে পাচ্ছেন না কী ভাবে ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনবেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের এই উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রশাসনের সর্ব স্তরে তিনি আবেদন করছেন ছেলের চিকিৎসায় আর্থিক সাহায্যের জন্য।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here