north bengal

ওয়েবডেস্ক: শনিবার সকালে কালিম্পং-এ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৫ ডিগ্রি, শান্তিনিকেতনে ছিল ১০.৭। শিলিগুড়িতে যখন ১২.৪ পানাগড়ে তখন ১০.৯। কোচবিহারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৪ ডিগ্রি, বহরমপুরে তখন ১২.৫। অর্থাৎ ভালো করেই বোঝা যাচ্ছে শীতের নিরিখে উত্তরবঙ্গকে দশ গোল দিয়েছে দক্ষিণবঙ্গ।

শুধু উত্তরবঙ্গই নয়, সমগ্র উত্তরপূর্ব ভারতেই পরিস্থিতিটা এরকমই। শনিবার সকালে অসমের গুয়াহাটিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৬.৭ ডিগ্রি, সেখানে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫.৫ ডিগ্রি। স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি কম তাপমাত্রা নিয়ে এদিনই মরশুমের শীতলতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে কলকাতায়। অরুণাচলের রাজধানী ইটানগর তো আরও গরম। সেখানে শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রি।

কিন্তু উলটোটাই তো হওয়ার কথা ছিল। স্বাভাবিক নিয়ম মেনে, উত্তরবঙ্গ এবং উত্তরপূর্ব ভারতে আগে শীত পড়াটাই তো দস্তুর। শুরুও সে ভাবেই হয়েছিল। নভেম্বরের শুরু থেকে দক্ষিণবঙ্গবাসী যখন শীতের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে রয়েছে, উত্তরবঙ্গ তখন শীতকে স্বাগত জানাচ্ছেন। পারদ ক্রমশ নামছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়িতে শীতের মিঠে রোদ উপভোগ করতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে দেখা যাচ্ছে সুবিশাল কাঞ্চনজঙ্ঘা। সব মিলিয়ে শীতের আদর্শ পরিবেশ। কিন্তু এখন থমকে গিয়েছে পারদ পতন, সেখানে টেক্কা দিতে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গ।

কিন্তু এরকম হল কেন? বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা এর জন্য দুটি কারণকে দায়ী করেছেন। এক নম্বর, তামিলনাড়ু উপকূলে থাকা একটি নিম্নচাপ এবং উত্তরপূর্ব ভারতের ওপরে থাকা একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। তাঁর কথায়, “উত্তর ভারত থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসকে টেনে নিচ্ছে তামিলনাড়ু উপকূলের ওপরে থাকা নিম্নচাপটি। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, দক্ষিণবঙ্গ হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সেই ঠান্ডা হাওয়া। এর জন্যই উপকূলবর্তী শহর হলেও দিঘাতেও জোর ঠান্ডা মালুম হচ্ছে।”

কিন্তু পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটির ফলে উত্তরবঙ্গের আকাশ মেঘলা রয়েছে, তাই এই ঠান্ডা হাওয়া উত্তরবঙ্গ এবং সমগ্র উত্তরপূর্ব ভারতেই ঢুকতে পারছে না, এমনই মনে করেন রবীন্দ্রবাবু।

এই পরিস্থিতি বদলের কোনো সম্ভাবনা?

রবীন্দ্রবাবুর মতে, এ মাসের শেষ দিকে ঠান্ডার প্রকৃত রূপ বুঝতে পারবে উত্তরবঙ্গ। তাঁর কথায়, “এই পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটির ফলে সিকিম, ভুটান এবং অরুণাচলে তুষারপাত এবং উত্তরবঙ্গে হালকা বৃষ্টি হতে পারে কয়েকদিন। পশ্চিমী ঝঞ্ঝাটি সরে গেলেই সিকিম থেকে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকে পড়বে, মালুম হবে শীত।” এ রাজ্যের সান্দাকফু-ফালুটেও তুষারপাত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এ দিকে ঠান্ডার প্রকোপ এখনও জারি রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। বেশিরভাগ জায়গাতেই স্বাভাবিকের থেকে চার থেকে পাঁচ ডিগ্রি করে কম রেকর্ড করা হয়েছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। রবীন্দ্রবাবুর মতে, আপাতত তাপমাত্রার আর বিশেষ কমার সম্ভাবনা নেই। তবে এখনই খুব একটা বাড়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here