অব্যাহত মোর্চার তাণ্ডব, গোর্খাল্যান্ডবিরোধী মিছিলে হাঁটল শিলিগুড়ি

0
615

দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি: রাজ্য সরকার তো নয়ই, আলাদা রাজ্যের ব্যাপারে কেন্দ্রেরও বিশেষ হেলদোল নেই। সেই সঙ্গে এক দিকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য যেমন চাপ দিচ্ছে কট্টরপন্থীরা তেমনই সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা ভেবে বন্‌ধ তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছে বিরোধীরা। এই সাঁড়াশি চাপের মধ্যে ফের জঙ্গি আন্দোলনের পথকেই বেছে নিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা।

বৃহস্পতিবার রাতভর পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় তাণ্ডব চালালেন মোর্চা সমর্থকরা। মিরিকের তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলার পাশাপাশি পার্বত্য কাউন্সিলের একটি অফিসেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে পুলিশের গাড়ি থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়েরও।

পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাত ১টা নাগাদ মিরিক পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান এম কে জিম্বার বাড়িতে হামলা চালায় মোর্চা সমর্থকরা। তাঁর বাড়ি লক্ষ করে পেট্রোল বোমা ছোড়া হয়। মাথায় চোট পেয়ে মিরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জিম্বা। শেষ পাওয়া খবরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

জিম্বার বাড়িতে হামলার পর মিরিকেই দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল (ডিজিএইচসি)-এর একটি দফতরে আগুন লাগিয়ে দেন মোর্চা সমর্থকরা। দার্জিলিঙের রংলি রংলিওটে পুলিশের একটি পেট্রল গাড়ি থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগও উঠেছে মোর্চা সমর্থকদের বিরুদ্ধে। মিরিক থানার ওসি এল বি রাই জানান, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার করা যায়নি।

এ দিকে গোর্খাল্যান্ডবিরোধী মিছিলে ফের পা মেলাল শিলিগুড়ি। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের ভিত্তিতে যে ভাবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছিলেন তাতে নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছিলেন ‘ফোরাম ফর পিস ইউনিটি’-এর ব্যানারে থাকা এই অরাজনৈতিক মিছিলের সংগঠকরা। সেই জন্য প্রচার আরও বাড়িয়ে ডাক দেওয়া হয়েছিল মহামিছিলের। শুক্রবারের সেই মহামিছিল কার্যত বুঝিয়ে দিল আলাদা রাজ্যের বিরুদ্ধে মানুষ কতটা এককাট্টা।

বিকেল চারটেয় শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক থেকে শুরু হওয়া মিছিলে হাঁটলেন  চা শ্রমিক থেকে পড়ুয়া, গৃহবধূ থেকে অধ্যাপক, আইনজীবী থেকে চিকিৎসক। পুলিশের মতে প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষ এই মিছিলে হেঁটেছেন।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here