ডাক্তারদের ওপর হামলা হলে দ্রুত কড়া ব্যবস্থা, জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

0
nrs doctors returning from nabanna
আলোচনার পর নবান্ন থেকে ফেরার পথে জুনিয়র ডাক্তাররা। ছবি রাজীব বসু।

ওয়েবডেস্ক: শেষ পর্যন্ত অচলাবস্থা কাটল। কাজে ফিরে গেলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর ধর্মঘট তুলে নিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করে জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনবেন।

আরও পড়ুন সাত দিন পর অবশেষে উঠল ডাক্তারদের কর্মবিরতি

হাসপাতালে যাতে আর একটাও হামলার ঘটনা না ঘটে, বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনরত ডাক্তারদের তরফ থেকে বৈঠকে যোগদানকারী ৩০ জন প্রতিনিধির সামনে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যদি হামলার কোনো ঘটনা ঘটে, সে ক্ষেত্রে দ্রুত ও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দু’ পক্ষের মধ্যে কথা হয় অত্যন্ত হৃদ্য পরিবেশে। একে অপরের কথা শোনেন মন দিয়ে। আন্দোলনরত ডাক্তারদের সব দাবির সঙ্গেই একমত হন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের সব সিদ্ধান্ত যে প্রশাসন যথাযথ ভাবে প্রয়োগ করবেন সে ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন জুনিয়র ডাক্তাররা।  

সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ নবান্নে বৈঠক বসে। তবে এই বৈঠক নিয়ে রীতিমতো টানাপোড়েন চলছিল রবিবার রাত থেকে। আন্দোলনরত ডাক্তাররা শর্ত দিয়েছিলেন, বৈঠক মিডিয়ার উপস্থিতিতে ক্যামেরার সামনে করতে হবে। কোনো গোপন বৈঠক চলবে না। সকালে নবান্নে বৈঠকে আসার জন্য মেডিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টর প্রদীপ মিত্রের তরফ থেকে প্রতিবাদী ডাক্তারদের কাছে চিঠি যায়। কিন্তু তাতে লাইভ কভারেজের শর্ত মানা, না-মানা নিয়ে কোনো কথা ছিল না। পরে দুপুরে এনআরএস-এর অধ্যক্ষ জানান, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকের লাইভ কভারেজে সম্মতি দিয়েছেন। ৪টে নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। 

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ১২ দফা লিখিত দাবি পেশ করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। প্রতিটি দাবিই আলাদা আলাদা করে তাঁরা বিস্তারিত বলেন মুখ্যমন্ত্রীর সামনে। এই দাবিগুলির মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় পুলিশের সংখ্যা ও সক্রিয়তা বাড়ানোর দাবি যেমন ছিল, তেমনই ছিল রোগীদের অভাব-অভিযোগ মেটাতে হাসপাতালের গ্রিভ্যান্স সেল বা অভিযোগ গ্রহণকেন্দ্রগুলিকে সামনে নিয়ে আসার দাবিও। একই সঙ্গে বিভিন্ন হাসপাতালে রাজনৈতিক দলগুলির ‘প্রভাব’ কমানোর জন্যও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়।

এন আর এস-এর ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করা হলে, এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মুখ্যসচিব মলয় দে, সঞ্জয় বনশল, প্রবীণ ত্রিপাঠী, গৌতম সান্যাল, রাজীব সিংহ, স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন সুকুমার মুখোপাধ্যায়, অভিজিৎ চৌধুরীর মতো কয়েক জন বিশিষ্ট সিনিয়র চিকিৎসকও।

বিকেল ৫.৩৫ মিনিটে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের অর্চিষ্মান ভট্টাচার্য। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এনআরএস-এর জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।

মুখ্যমন্ত্রী যা ঘোষণা করলেন –

• ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে দিকে নজর রাখা হবে। আর ঘটলেও সঙ্গে সঙ্গে কড়া পদক্ষেপ।

• গোটা রাজ্যের জন্য একটি জরুরিভিত্তিক নম্বর এবং ই-মেল আইডি চালু করতে ডিজি বীরেন্দ্রকে নির্দেশ।

• নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যাপারে পুলিশ পদক্ষেপ না করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি।

• যে সমস্ত প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, সে সব প্রকল্পের কতটা অগ্রগতি হয়েছে, তা যাচাই করে দেখার নির্দেশ।

• রোগীদের আত্মীয়দের জন্য সরকারের যে গ্রিভ্যান্স সেল বা অভিয়োগ গ্রহণ কেন্দ্র রয়েছে, সে গুলিকে আরও সক্রিয় ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।

বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মল্লিকবাজারে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে দেখতে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here