kolkata

কলকাতা: বিজেপির যুব মোর্চার অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গোটা উত্তর কলকাতা। জোড়াবাগান, পোস্তা-সহ সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর বিস্তৃত এলাকা জুড়ে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের কার্যকলাপে লাগাম পরানো আয়ত্তের বাইরে চলে যায় মোতায়েন পুলিশের। অবশেষে আরও বেশি সংখ্যক পুলিশ নামিয়ে দুই দলের উচ্চ নেতৃত্ব পথে নামলে পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তের মধ্যে আসে। বিজেপি নিজে থেকেই বাতিল করে দেয় পূর্ব ঘোষিত বাইক মিছিল।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে এলাকার তৃণমূল কর্মীরা ঢুকে পড়ে। তা সামাল দিতে গেলেই শুরু হয়ে যায় বচসা। এর পর তারা লাটিসোটা এমনকি অস্ত্র নিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে যুব মোর্চার বাইক মিছিল বাতিল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন তিনি।

বিজেপির বাইক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, তাঁদের যাত্রাপথে পোস্তার কাছে ওই কর্মসূচির ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেয় তৃণমূল সমর্থকরা। তার প্রতিবাদ করতে গেলেই তাঁদের আক্রমণ করা হয়।

অন্য দিকে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেছেন, মিছিলের নামে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা এলাকার তৃণমূল কর্মীদের উপর বেছে বেছে আক্রমণ করে। তৃণমূলের কর্মীদের অমানবিক ভাবে মারধর করেছে বিজেপি। তারা যে ছক কষে আক্রমণের উদ্দেশেই এলাকায় জড়ো হয়েছিল তা বোঝা গিয়েছিল তাদের হাতে লাঠি এবং অন্যান্য সরজ্ঞাম দেখেই। শহরের ব্যস্ততম সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ জুড়ে বিজেপি সমর্থকরা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শশীদেবী।

উল্লেখ্য, বিজেপির এই মিছিলের অনুমতি চেযে রাজ্য পুলিশের কাছে আবেদন করলে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এবং আদালতের নিযুক্ত করা অফিসারের পর্যবেক্ষণে এই মিছিল আয়োজনের অনুমতি পায়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই ধন্ধুমার কাণ্ডে ওই অফিসারের গাড়িটিতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

পরে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানান, বিজেপি শুক্রবারের মিছিল স্থগিত রাখুক। পরিবর্তে তারা শনিবার মিছিলের আয়োজন করে আদালতের কাছে রোড ম্যাপ জমা করুক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন