siliguri mahakuma parishad

ওয়েবডেস্ক: বামফ্রন্ট ৫, তৃণমূল ৪। ৯ সদস্যের শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে সিপিএমের এক সদস্য তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় এমনটাই দাঁড়িয়েছে দুই রাজনৈতিক দলের সদস্য বিন্যাস। এই বিন্যাসকেই হাতিয়ার করে বাম পরিচালিত পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে তৃণমূল। তবে এ নিয়ে খুব একটা ভাবিত নয় সিপিএম। দলের জেলা আহ্বায়ক জীবেশ সরকার জানালেন, “অনাস্থার জন্য প্রস্তুত আছি। আমাদের পাঁচ সদস্যের মধ্যে সর্বাধিক একতা রয়েছে। তাই আশঙ্কার কিছু নেই”।

দু’বারের সিপিএম বিধায়ক শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদস্য ছোটন কিস্কু দল ছেড়েছেন গত বৃহস্পতিবার। পঞ্চায়েত ভোট প্রক্রিয়ার মধ্যেই তিনি যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তাঁর এই আচমকা দল পরিবর্তন নিয়ে গোটা উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব পড়ে বলে মনে করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে

২০০৬ সালে সিপিএমের প্রতীকে ফাঁসিদেওয়া কেন্দ্র থেকে জয়লাভ করেন কিস্কু। তারও আগে ২০০৮-০৬ তিনি ছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহ-সভাধিপতি। বর্তমানে পরিষদের সদস্য হিসাবে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। অন্য দিকে সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটির সদস্য। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর দল বদলে স্থানীয় রাজনৈতিক চালচিত্রের যে বেশ বড়সড়ো পরিবর্তন হতে চলেছে, তা নিসন্দেহে বলা যায়। অন্য দিকে রয়েছে বামফ্রন্টের দখলে থাকা মহকুমা পরিষদের সদস্য বিন্যাস।

৯ সদস্যের পরিষদে এত দিন বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের সদস্য ছিলেন যথাক্রমে ৬ এবং ৩ জন। কিন্তু কিস্কু তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় সেই সংখ্যা বদলে গিয়ে দাঁড়াল ৫ এবং ৪ জনে। ফলে এর পরে যে বামেদের দখলে থাকা মহকুমা পরিষদটির হাত বদল ঘটে যেতে পারে, সেই সম্ভাবনাও প্রকট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়েছেন, তাঁরা পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আসবেন।

কিস্কু অবশ্য নিজে বলেছেন, “আমার শাসক দলের যোগ দেওয়ার কারণ গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নকে আরও ত্বরাণ্বিত করা”।

অন্য দিকে জেলার সিপিএম আহ্বায়ক জীবেশ সরকার বলেছেন, শাসক দল অনেতিক ভাবে নির্বাচিত পরিষদের দখল নিতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পেশিশক্তির কাছে হার মেনে, প্রাণের দায়েই ওই নেতা দল ছেড়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here