করোনা পরিস্থিতিতে মাথায় হাত রাজ্যের ডেকোরেটরদের, সুরাহার জন্য রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভরসায়

    আরও পড়ুন

    শুভদীপ রায় চৌধুরী

    এ বছর চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। সারা দেশের মতো নাজেহাল অবস্থা বঙ্গেরও। তবে এখন রাজ্যের করোনা-গ্রাফ অনেকটাই নিম্নমুখী। লকডাউনের নিয়মকানুন কিছুটা শিথিল হওয়ার পরে খুলতে শুরু করেছে রেস্তোরাঁ, শপিং মল ইত্যাদি। রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের যে যে শিল্প খুব মার খেয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডেকোরেটিং শিল্প। জমায়েত বন্ধ। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান কার্যত বন্ধ। ফলে ডেকোরেটরদের হাতে কার্যত কোনো কাজ নেই।

    Loading videos...

    আর সারা বছর ধরে যে উৎসবের দিকে সকলের সঙ্গে ডেকোরেটররাও তাকিয়ে থাকেন, সেই দুর্গাপুজো নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর এখনও কয়েক মাস বাকি। কিন্তু এখন থেকেই আপামর বাঙালির মনে প্রশ্ন, গত বছরের মতো এ বছরেও কি স্বাভাবিক ভাবে পুজো হবে না?  

    - Advertisement -

    রাজ্যে ডেকোরেটিং ব্যাবসার সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে বহু ডেকরেটর এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য ব্যাবসায় নিয়োজিত হয়েছেন অন্নসংস্থানের জন্য। তা হলে কি এই ব্যাবসা এ বার ধ্বংসের পথে? কথা হল পশ্চিমবঙ্গ ডেকোরেটর্স সমন্বয় সমিতির যুগ্ম সম্পাদক গোপাল সরকারের সঙ্গে। তিনি জানালেন, বিগত বছরের মতো এ বছরও তাঁরা বহু বার চেষ্টা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এই সমস্যার সমাধান করার। সেই চেষ্টা আজও সফল হয়নি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি

    গোপালবাবু জানান, গত বছর মার্চ মাসের ২৮ তারিখ তাঁরা প্রথম চিঠি পাঠান মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। তার পর গত বছর জুন মাসে ডেকোরেটর্স সমন্বয় সমিতির পাঁচ জনের প্রতিনিধিদল নবান্নেও গিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, লকডাউনে ডেকোরেটর এবং ডেকোরেটিং কর্মীদের করুণ অবস্থার কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো। কিন্তু নবান্নের আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ দেননি বলে গোপালবাবু অভিযোগ করেন। তার পর থেকে প্রায় প্রতি মাসেই একটি করে চিঠি ডেকোরেটরদের কেন্দ্রীয় সমিতির পক্ষ থেকে এবং একটি করে জেলাভিত্তিক চিঠিও পাঠানো হয়। তবে কোনো চিঠিতেই তাঁরা সরকারের সাড়া পাচ্ছেন না বলে জানালেন গোপালবাবু।

    মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিগুলির একটি।

    গোপালবাবুর দাবি, রাজ্য সরকারের কিংবা যে কোনো রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানের জন্য তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেই তাঁর সেই কাজ সবার আগে করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই দুর্দিনে তাঁরা কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না।

    আর কয়েক মাস পরেই দুর্গাপুজো। সেই পুজো নিয়েও গোপালবাবুদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ একটি পুজো প্যান্ডেল তৈরির সঙ্গে যুক্ত থাকেন বহু কর্মী। কেউ প্যান্ডেলের কাঠামো তৈরির কাজ করেন আবার কারও দায়িত্ব থাকে সেই কাঠামোয় কাপড় লাগানো বা যথাযথ থিম তৈরি করা।

    ডেকোরেটিং-এর কাজে যুক্ত ৪ লক্ষ কর্মী

    গোপালবাবুর হিসাব, রাজ্যে ডেকোরেটিং-এর কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৪ লক্ষ কর্মী। এঁদের মধ্যে লাখদুয়েক স্থায়ী, বাদবাকি অস্থায়ী কর্মী। কাজের অভাবে এঁদের রুটিরুজি আজ বিপন্ন। এর পর দুর্গাপুজো যদি তেমন ভাবে না হয় তা হলে এঁদের যে কী দুর্দশা হবে তা ভেবে পাচ্ছেন না গোপালবাবুরা।

    গোপালবাবু জানালেন, তাঁরা ২১ জুন মুখ্যমন্ত্রীকে আবার চিঠি দেবেন। তবে সেই চিঠিকে কতটা গুরুত্ব দেবে রাজ্য প্রশাসন তা নিয়েই ধন্দে রয়েছেন তাঁরা।

    সমন্বয় সমিতির যুগ্ম সম্পাদক জানান যে, তাঁরা প্রতিটি জেলার সদস্যদের বলেছেন এই বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে। বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক প্রধানকে চিঠিও পাঠাতে বলেছেন তিনি। তবে কতটা সদুত্তর পাবেন সেই নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

    ইতিমধ্যে রাজ্য প্রশাসন সব হকার এবং দোকানদারের জন্য বিনামূল্যে টিকাকরণের ব্যবস্থা করেছে। তা হলে এই ডেকোরেটর্স শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের টিকাকরণে মাথা ঘামানো হচ্ছে না কেন? সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোপালবাবুরা। তবে তাঁরা এখনও আশাবাদী যে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন এবং রাজ্যের এই শিল্পকে বাঁচাবেন।

    আরও পড়ুন: কোভিড আচরণবিধি শিকেয়, উত্তরপ্রদেশের হাপুড়ে দশহরায় গঙ্গাস্নানের হিড়িক

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর